সলমন খানের ছায়াসঙ্গী শেরা কিংবা শাহরুখ খানের দেহরক্ষী রবি সিংয়ের বার্ষিক আয় নাকি ২ থেকে ২.৫ কোটি টাকা! সোশ্যাল মিডিয়ায় বছরের পর বছর ধরে চলা এই ‘বিস্ফোরক’ তথ্য কি আদৌ সত্যি? এবার সেই রহস্যের পর্দা ফাঁস করলেন খোদ বাদশার প্রাক্তন সিকিউরিটি চিফ ইয়াসিন খান। সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, কোটি টাকার এই গল্পগুলো আসলে স্রেফ রটনা।
বলিউড তারকাদের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের বেতন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে আকাশছোঁয়া অঙ্ক ঘুরপাক খায়, তাতে এবার জল ঢেলে দিলেন শাহরুখ খানের একসময়ের বিশ্বস্ত সিকিউরিটি হেড ইয়াসিন খান। ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর শাহরুখ ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন ইয়াসিন। সম্প্রতি ‘হিন্দি রাশ’-এর এক পডকাস্টে তিনি জানালেন, তারকাদের বডিগার্ডদের বেতন নিয়ে যা রটে, তার বেশিরভাগটাই ভুল।
ইয়াসিন খানে মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হয় যে বড় তারকাদের দেহরক্ষীরা বছরে ২-২.৫ কোটি টাকা আয় করেন। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটে না। তিনি বলেন, “এমনটা হয় না। বেশিরভাগ দেহরক্ষীই নির্দিষ্ট মাসিক বেতনে কাজ করেন। এমনকী অভিজ্ঞ সিকিউরিটি পার্সোনেলদের বেতনও মাসে ১ লক্ষ টাকার কাছাকাছি হয়। কে মাসে ১০ লক্ষ টাকা বেতন দেয়?”
ইয়াসিন জানান, তারকাদের ব্যক্তিগত বেতনের বাইরেও আয়ের একটি রাস্তা থাকে। যখন কোনও সিনেমার শুটিং চলে, তখন প্রযোজকদের সঙ্গে একটি আলাদা চুক্তি হয়। সেই ছবির কাজ চলাকালীন বডিগার্ডরা বাড়তি কিছু টাকা পান। তবে সেটিও কোটি কোটি টাকা নয়। ইয়াসিন নিজেই শাহরুখের সঙ্গে কাজ করার সময় প্রযোজকদের কাছ থেকে এই ন্যায্য পাওনা দাবি করার প্রথা শুরু করেছিলেন, যা পরে ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়।
সলমনের বডিগার্ড শেরা কিংবা শাহরুখের রবি সিংয়ের নাম নিয়ে যে বিপুল অঙ্কের টাকার বেতনের কথা বলা হয়, তাকেও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন ইয়াসিন। তাঁর দাবি, যদি কোনও তারকা ব্যক্তিগতভাবে খুশি হয়ে কাউকে বেশি টাকা দেন, সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু পেশাদার হিসেবে তারকার দেহরক্ষীদের বেতন অতটা বেশি হওয়া অসম্ভব।
১০ বছর শাহরুখের সঙ্গে কাজ করার পর ইয়াসিন এখন নিজের সিকিউরিটি ফার্ম চালাচ্ছেন। তাঁর সংস্থা এখন বিরাট কোহলি ও শচীন তেন্ডুলকরের মতো মহাতারকাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলায়।
















