বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অন-স্ক্রিন মুখোমুখি লড়াই হওয়ার কথা ছিল এই ছবিতে। দুই তারকা, দুই আইকনিক স্পাই চরিত্র, আর এক বিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজি—সব মিলিয়ে দর্শকের উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু আপাতত থমকে গিয়েছে সেই স্বপ্নের প্রজেক্ট ‘টাইগার ভার্সেস পাঠান’। খবর, বিশাল বাজেট-ই এই যশ রাজ ফিল্মসের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছবিকে সাময়িক বিরতিতে পাঠিয়েছে।
পরিকল্পনা ছিল, সলমন খানের ‘টাইগার’ চরিত্রটি এবং শাহরুখ খানের-এর ‘পাঠান’, এই দুই সুপার স্পাইয়ের ধুন্ধুমার লড়াইকে ঘিরে তৈরি হবে এক বিস্ফোরক অ্যাকশন-থ্রিলার। এটি শুধু একটি ছবি নয়, বরং যশ রাজ ফিল্মসের বহুল আলোচিত স্পাই ইউনিভার্সের অন্যতম কেন্দ্রীয় অধ্যায় হিসেবে ভাবা হয়েছিল।
সূত্রের দাবি, ছবিটি প্রি-প্রোডাকশন পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই বাজেট নিয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়। সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে ছবির বিপুল প্রোডাকশন খরচ। বিশেষত শাহরুখ ও সলমনের মতো দেশের এত বড় দুই তারকার পারিশ্রমিক। শোনা যাচ্ছে, শুধু প্রধান দুই অভিনেতার পারিশ্রমিকই প্রায় ১০০ কোটি টাকা করে হতে পারত। তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক লোকেশন, স্টান্ট, অ্যাকশন সেট-পিস, ভিএফএক্স। সব মিলিয়ে ছবির সম্ভাব্য বাজেট পৌঁছে যায় এমন এক উচ্চতায়, যা বর্তমান বাজারে বিরাট ঝুঁকির বলেই মনে করছে প্রযোজনা সংস্থা।
এই ক্রসওভারের ধারণা জন্ম নেয় ব্লকবাস্টার ‘পাঠান’-এর বিপুল সাফল্যের পর। ছবিটি শুধু বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড গড়েনি, বরং করোনা পরবর্তী সময়ে হিন্দি সিনেমার থিয়েটার ব্যবসায় নতুন প্রাণ ফিরিয়েছিল। সেই সাফল্যের ঢেউয়ে ভর করেই প্রযোজক আদিত্য চোপড়া নাকি আরও বড় ক্যানভাসে এই স্পাই ইউনিভার্সকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু বাস্তবের অঙ্ক সিনেমার স্বপ্নের মতো সহজ নয়। ইন্ডাস্ট্রিতে ক্রমবর্ধমান প্রোডাকশন খরচ, তারকার পারিশ্রমিক, এবং বক্স অফিসের অনিশ্চয়তা, সব মিলিয়ে বলিউডের ফার্স্ট বয়-এর স্টুডিও-ও এখন হিসেবি হতে বাধ্য। ফলে প্রকল্পটি বাতিল নয়, তবে আপাতত ‘পজ’-এ রাখা হয়েছে বলেই শোনা যাচ্ছে।
এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন, এত বড় দুই তারকা বড় পারিশ্রমিক চাইবেন, এটাই স্বাভাবিক। কেউ আবার মনে করছেন, বলিউডে এখন আর অত বড় বাজেটের ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রযোজকরা। আবার অনেক দর্শকের মতে, শাহরুখ-সলমনকে আবার একসঙ্গে বড় পর্দায় দেখার সুযোগ হাতছাড়া হলে সেটি সত্যিই 'ঐতিহাসিক মিস' হবে।
&t=313s
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন অনিশ্চিত। তবে ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞরা বলছেন, বড় প্রজেক্টের পরিকল্পনা কখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। সঠিক সময়, সঠিক বাজার, আর সঠিক হিসেব মিললেই আবার আলোচনায় ফিরে আসে।
অতএব, প্রশ্নটা এখনও খোলা – ‘টাইগার’ কি সত্যিই ‘পাঠান’-এর মুখোমুখি হবে? না কি এই লড়াই আপাতত দর্শকের কল্পনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
