বলিউডে সম্পর্কের গল্প যেমন তৈরি হয়, তেমনই ভাঙেও। কিন্তু কিছু ভাঙন শুধুই ব্যক্তিগত থাকে না, তা হয়ে ওঠে সময়ের দলিল। শাহরুখ খান এবং সলমন খানের সম্পর্ক তেমনই এক অধ্যায়, যা একসময় ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে-বাইরে সমানভাবে আলোচিত হয়েছিল। একসময় ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বে আবদ্ধ এই দুই তারকার দূরত্ব যখন প্রকাশ্যে আসে, তখন তা শুধু রসালো গুঞ্জনে সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং বলিউডের ক্ষমতার সমীকরণ, ইগো, প্রতিযোগিতা এবং সম্পর্কের বাস্তবতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। এখনও হয়তো দেয়। এই প্রেক্ষাপটে বহু বছর আগে দেওয়া সেলিম খানের একটি সাক্ষাৎকারের মন্তব্য আবারও নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।
সম্পর্ক মানেই কি মিল না কি গ্রহণযোগ্যতা? সেলিম খান তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই সম্পর্কের এক বাস্তব ছবি তুলে ধরেন।তাঁর মতে, সম্পর্ক মানেই মতের মিল নয় বরং মতভেদ সত্ত্বেও ভালবাসার জায়গা তৈরি করা। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তাঁর ছেলে কিংবা স্ত্রীর সঙ্গে অসংখ্য মতপার্থক্য থাকলেও, ভালবাসা সেই পার্থক্যকে ছাপিয়ে যায়। এই বক্তব্যে সম্পর্কের একটি মানবিক ও পরিণত দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়, যেখানে ভালবাসা যুক্তির চেয়ে বড়।
তবে যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে শাহরুখ ও সলমন-এর সম্পর্ক, তখন সেলিম খানের বক্তব্যে স্পষ্ট বদল দেখা যায়। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, “প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আদৌ কি বন্ধুত্ব সম্ভব?” তাঁর যুক্তি, প্রতিযোগিতার সম্পর্কের মধ্যে সৌজন্য থাকতে পারে। যেমন, শুভেচ্ছা বিনিময়, সামাজিক সৌহার্দ্য—এসবই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সম্পর্ককে কি ‘বন্ধুত্ব’ বা ‘ভালবাসা’ বলা যায়?
সেলিম খানের এই মন্তব্য আসলে বলিউডের একটি দীর্ঘস্থায়ী বাস্তবতাকে সামনে আনে। স্টারডমের শীর্ষে থাকা দুই অভিনেতার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা শুধু পেশাগত থাকে না, তা ব্যক্তিগত সম্পর্কের উপরও প্রভাব ফেলে।শাহরুখ-সলমনের সম্পর্ক সেই বাস্তবতারই সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ, যেখানে বন্ধুত্ব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ইগোর টানাপোড়েন একসঙ্গে কাজ করেছে। এই ভাঙন এতটাই প্রকাশ্য হয়েছিল যে, তা একসময় বলিউডের ‘নির্ধারক’ আলোচনায় পরিণত হয়! কে কার সঙ্গে কথা বলছেন, কে কার অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না—সবই হয়ে উঠেছিল খবর।

সেলিম খানের বক্তব্যে বারবার ফিরে আসে একটি প্রশ্ন, সম্পর্কের সংজ্ঞা ঠিক কী? তাঁর মতে, প্রকৃত সম্পর্কের ভিত ভালবাসা। আর যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রাধান্য পায়, সেখানে সেই ভালবাসার জায়গা চেপে ছোট হয়ে যায়। সলমনের বাবার এই এই দৃষ্টিভঙ্গি হয়তো বিতর্কিত, কিন্তু বাস্তবতার কাছাকাছি। বিশেষ করে এমন এক ইন্ডাস্ট্রিতে, যেখানে সাফল্য ও প্রতিযোগিতা প্রায় অবিচ্ছেদ্য।
তা আজও কেন প্রাসঙ্গিক সেলিম খানের এই মন্তব্য? সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে। শাহরুখ খান এবং সলমন খানের সম্পর্কেও এসেছে পরিবর্তন, সৌজন্যের জায়গা তৈরি হয়েছে। তবুও, সলিম খানের সেই মন্তব্য আজও প্রাসঙ্গিক। কারণ তা শুধুমাত্র দুই তারকার সম্পর্ক নিয়ে নয়,
বরং প্রতিযোগিতা ও আবেগের সহাবস্থান নিয়ে একটি বৃহত্তর প্রশ্ন তোলে। বলিউডের ইতিহাসে বহু সম্পর্ক এসেছে-গিয়েছে কিন্তু শাহরুখ-সলমনের সমীকরণ এখনও এক অমীমাংসিত আলোচনার জায়গা হয়ে রয়েছে। যেখানে বন্ধুত্ব, দূরত্ব এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা—তিনটিই একসঙ্গে উপস্থিত।
