কেওড়াতলা মহাশ্মশানে অনীক দত্তর শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন রূপা গাঙ্গুলি। রজনীগন্ধার স্তবক দিয়ে পরিচালককে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন বিধায়ক-অভিনেত্রী৷ পরিচালকের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত রূপা গাঙ্গুলি৷ 

অভিনেত্রী বলেন,  "এভাবে ওঁকে না যেতে হলেই ভাল হত৷ এটাই ওঁর সময় ছিল। মন খুলে সিনেমা বানানোর সময়,  ও কেন পিছু হঠল জানি না৷ অনেকদিন ধরে কষ্ট পাচ্ছিল৷ অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছে ওকে৷ আমার সঙ্গে কথা হত৷" 

রূপা গাঙ্গুলির রাজনৈতিক বিষয় কোথাও কোনও ভুলচুক দেখলেও অনীক দত্ত ধমক দিতেন বলে জানিয়েছেন রূপা গাঙ্গুলি৷ অভিনেত্রী বলেন, " রাজনৈতিক বিষয় কিছু এদিক থেকে ওদিক হলেই আমাকে ফোন করে বকাবকি করত, আমি শান্ত ভাবে শুনতাম ওঁর কথা৷  বলতাম, একটু সময় দাও, বোঝানোর চেষ্টা করতাম,  আমরা একটা উন্মুক্ত সমাজ দেখব৷ সেদিনও নন্দনে গিয়ে বললাম, সবরকম সিনেমা হবে৷ সবরকম থিয়েটার হবে৷ মানুষ মন খুলে তাদের সংস্কৃতি চর্চা করবে৷ অপরাজিত এত তাড়াতাড়ি কেন পরাজিত হল জানি না।" এই কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন রূপা গাঙ্গুলি।

বুধবার টলিপাড়ায় শোকের ছায়া। প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্ত। এদিন দুপুরে খবর আসে, গড়িয়াহাটের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তিনি। সঙ্কটজনক অবস্থায় দক্ষিণ কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে পরিচালককে ভর্তি করানো হয়।। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আসে দুঃসংবাদ। পুলিশ ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন আচমকাই বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। তড়িঘড়ি তাঁকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আবাসনের নীচে যে জায়গায় আছড়ে পড়েছিলেন অনীক, সেখানে সেই সময়ও পড়েছিল চাপ চাপ রক্ত। পুলিশ ওই জায়গাটি এনক্লোজ করে দেয়।  কিছুদিন আগেই শারীরিক অসুস্থতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন অনীক দত্ত। আবাসনে নিজের ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন তিনি।