বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করতে গিয়ে বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছেন অভিনেতা বিবেক ওবেরয়। তবে তাঁর অভিনয় জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষাটা এসেছিল ক্যামেরার সামনে নয়, বরং কলেজের মঞ্চে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই তিক্ত অথচ শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অভিনেতা। বিবেকের কথায়, দর্শকদের সামনে একবার তাঁর দিকে জুতো ছুড়ে মারা হয়েছিল। সেই অপমানই তাঁকে বুঝিয়েছিল, অভিনয়ে কোনও চরিত্রই ছোট নয়।
বিবেক জানান, মুম্বইয়ের মিঠিবাই কলেজে পড়ার সময় তিনি একটি নাট্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। বিভিন্ন ওয়ার্কশপে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, অভিনয়ের একাধিক সার্টিফিকেটও ছিল। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই তিনি ধরে নিয়েছিলেন, নাটকের মুখ্য চরিত্রটি তিনিই পাবেন। উপরন্তু তিনি অভিনেতা সুরেশ ওবেরয়ের ছেলে। তাই প্রত্যাশাও ছিল অনেক।
কিন্তু বাস্তবে ঘটল উল্টোটা। তাঁকে দেওয়া হল একটি ছোট চরিত্র। সেই ভূমিকায় কোনও সংলাপই ছিল না। হাতে একটি বর্শা নিয়ে শুধু মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকাই ছিল তাঁর কাজ। এই সিদ্ধান্তে তিনি এতটাই হতাশ হয়েছিলেন যে চরিত্রটির প্রতি কোনও গুরুত্বই দেননি। মহড়াতেও মন দেননি, মঞ্চেও অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
নাটক চলাকালীন তিনি বর্শার উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঠিক সেই সময় দর্শকাসন থেকে আচমকাই একটি জুতো ছুটে আসে তাঁর দিকে। অল্পের জন্য সেটি মুখে না লেগে কাঁধে লাগে। মুহূর্তের মধ্যে অপমানিত বোধ করেন বিবেক। তিনি মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চাইছিলেন। কিন্তু সেই সময়ই এক প্রবীণ ব্যক্তি তাঁকে থামিয়ে বলেন, "যে অভিনেতা ছোট চরিত্রকেও গুরুত্ব দিতে পারে না, সে কোনও দিন বড় চরিত্রের যোগ্য হয়ে উঠতে পারে না।"
এই কথাগুলোই বিবেকের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি বুঝতে পারেন, একজন প্রকৃত অভিনেতার কাছে চরিত্রের দৈর্ঘ্য নয়, অভিনয়ের সততা ও নিষ্ঠাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই ঘটনার পর তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, ভবিষ্যতে যে চরিত্রই পান না কেন, সর্বোচ্চ নিষ্ঠা দিয়ে অভিনয় করবেন।
পরবর্তীকালে সেই মানসিকতারই ফল মেলে। পরিচালক রাম গোপাল ভার্মার 'কোম্পানি' ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান বিবেক। ছবিটি মুক্তির পর তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয় এবং রাতারাতি তিনি বলিউডের অন্যতম প্রতিশ্রুতিমান অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পান। এরপর একাধিক ছবিতে নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
একই সাক্ষাৎকারে বাবার সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন বিবেক। তাঁর বাবা সুরেশ ওবেরয় যখন মুম্বইয়ে অভিনয়জীবন শুরু করতে এসেছিলেন, তখন তাঁর পকেটে ছিল খুব সামান্য টাকা। কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন। বাবার সেই লড়াই বরাবরই অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বিবেককে।
আজ সফল অভিনেতা হলেও কলেজজীবনের সেই অপমানের ঘটনা তিনি ভোলেননি। বরং তাঁর বিশ্বাস, জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোই মানুষকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা দেয়। একটি উড়ে আসা জুতো, কয়েকটি কঠিন কথা আর আত্মসমালোচনার সেই মুহূর্তই তাঁকে বদলে দিয়েছিল। আর সেই পরিবর্তনের ফলেই গড়ে উঠেছিল একজন আরও পরিণত, আরও দায়িত্বশীল অভিনেতা—বিবেক ওবেরয়।
















