বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত সংঘাত ‘ডন ৩’ -কে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এবার এক নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমা এমপ্লয়িজ (FWICE) অভিনেতা রণবীর সিং -এর বিরুদ্ধে জারি করা বয়কট বা ‘অসহযোগিতার নির্দেশিকা’ প্রত্যাহার করে নিলেও, ‘প্রডিউসার্স গিল্ড অফ ইন্ডিয়া’ শেষ মুহূর্তে অভিনেতাদের প্রজেক্ট ছেড়ে চলে যাওয়া নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আর এই টানাপোড়েনের মাঝেই শোনা গেল এই দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া অত্যন্ত গোপন ও রুদ্ধদ্বার মধ্যস্থতা বৈঠকের হাড়হিম করা সব তথ্য।

 

বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম হাই-প্রোফাইল এই বিবাদ মেটাতে খোদ সলমন খান, আমির খান থেকে শুরু করে হৃতিক রোশনের মতো মহাতারকাদেরও আসরে নামতে হয়েছিল!

 

 

জোর গুঞ্জন, গত বছরই পরিচালক ফারহান আখতার প্রডিউসার্স গিল্ডের দ্বারস্থ হন। এরপর গিল্ডের আনুষ্ঠানিক নিয়মের বাইরে গিয়ে ইন্ডাস্ট্রির প্রায় ২৫ জন বর্ষীয়ান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে নিয়ে একগুচ্ছ অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

 

প্রথম পর্বের বৈঠক: প্রথম দিকের দফায় দফায় হওয়া মিটিংগুলোতে উপস্থিত ছিলেন সলমন খান, হৃতিক রোশন, করণ জোহর এবং আলিয়া ভাট-এর মতো হেভিওয়েট তারকারা। কিন্তু রণবীর সিং প্রথম দিকের এই বৈঠকগুলো এড়িয়ে যান ।

 

দ্বিতীয় পর্বের বৈঠক: পরবর্তীতে রণবীর যখন বৈঠকে যোগ দেন, তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে হাজির হন আমির খান, অনিল কাপুর, রোহিত শেট্টি, রাজকুমার হিরানি, আশুতোষ গোয়ারিকর, প্রযোজক সিদ্ধার্থ রায় কাপুর এবং ভায়াকম১৮-এর স্টুডিও প্রধান অজিত আন্ধারে।

 

রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকে রণবীর সিং স্পষ্ট করে জানান, কেন তিনি ‘ডন ৩’ থেকে হুট করে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি মূলত ৪টি বড় অভিযোগ তোলেন -

 

১. চিত্রনাট্য নিয়ে অসন্তোষ: রণবীর দাবি করেন, ছবির স্ক্রিপ্ট বা চিত্রনাট্য এমন কোনো পর্যায়ে পৌঁছায়নি যেখানে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ শুরু করতে পারেন।

 

২. ফারহানের অনীহা: তাঁর অভিযোগ, পরিচালক ফারহান আখতার নিজেই এই ছবি নিয়ে সিরিয়াস ছিলেন না। তিনি অন্যান্য প্রজেক্ট এবং ওঁর মিউজিক কনসার্ট নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।

 

৩. পারিশ্রমিক কমানো: রণবীর দাবি করেন, চুক্তির পর ওঁর পারিশ্রমিক বা ফি পুনর্মূল্যায়ন করে কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

 

৪. বাজেট ছাঁটাই: সবচেয়ে বড় অভিযোগ, ছবির বাজেট প্রথমে ৩০০-৩৫০ কোটি টাকা রাখার কথা হলেও, পরে তা কমিয়ে মাত্র ১৫ কোটি টাকা করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি কোনো ‘সাইনিং অ্যামাউন্ট’ বা অগ্রিম টাকা পাননি বলেও দাবি করেন।

 

 

রণবীরের এই সমস্ত অভিযোগের পাল্টা জবাব দেন ফারহান আখতার এবং ওঁর পার্টনার তথা এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের সহ-মালিক রিতেশ সিধওয়ানি ।তাঁরা টেবিলে রণবীরের পুরোনো বেশ কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের রেকর্ড পেশ করেন, যেখানে দেখা যায় বিগত বছরগুলোতে স্ক্রিপ্ট পড়ে রণবীর নিজেই উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন। পারিশ্রমিক কমানোর দাবিও প্রযোজকেরা উড়িয়ে দেন।

 

সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয় যখন রিতেশ সিধওয়ানি সরাসরি রণবীরকে একটি প্রশ্ন করেন— “যদি আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাটি বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার হিট না হতো, তাহলেও কি তুমি ডন ৩ ছেড়ে চলে যেতে?” শোনা যাচ্ছে , রণবীর সততার সঙ্গে নাকি স্বীকার করেন যে, ‘ধুরন্ধর’ হিট না হলে তিনি হয়তো এই প্রজেক্ট ছাড়তেন না। (উল্লেখ্য, ‘ধুরন্ধর’ ছবির বিপুল সাফল্যের পর রণবীরের মার্কেট ভ্যালু একধাক্কায় অনেক বেড়ে গেছে)।

 

 

ফারহান ও রিতেশ প্রি-প্রোডাকশনের ক্ষতিপূরণ বাবদ রণবীরের কাছে ৪৫ কোটি টাকা দাবি করেছেন। এর বিপরীতে রণবীর সিং বৈঠকে একটি রফা করার চেষ্টা করেন। তিনি তাত্ক্ষণিক সেটেলমেন্ট হিসেবে ১০ কোটি টাকা নগদ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতের গ্যারান্টি হিসেবে জানান, আগামী দিনে এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের যেকোনও ছবিতে তিনি ওঁর চেনা পারিশ্রমিকের ওপর ২৫% ডিসকাউন্ট বা ছাড় দেবেন।

 

কিন্তু ফারহান এবং রিতেশ এই লোভনীয় প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে মুখের ওপর জানিয়ে দেন— এই ২৫% ডিসকাউন্টের কোনও মূল্য নেই তাঁদের কাছে, কারণ ভবিষ্যতে তাঁরা আর কোনওদিন রণবীর সিংয়ের সঙ্গে কোনও কাজই করতে চান না! বলিউডের তাবড় পঞ্চায়েতের পরও ‘ডন ৩’ তরজার জল যে এখনও অনেক দূর গড়াবে এবং দুই পক্ষের ঠান্ডা যুদ্ধ সহজে মিটবে না, তা এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের বিবরণী থেকেই স্পষ্ট।