পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবনীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলিউডি বায়োপিক ‘মাইকেল’ এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলেছে। সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও, সাধারণ দর্শক এবং ফারহা খান বা অনুপম খেরের মতো ভারতীয় তারকাদের প্রশংসায় বক্স অফিসে ইতিমধ্যেই ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যবসা করে ফেলেছে এই ছবি। কিন্তু এই বায়োপিকটি দেখার পর বলিউড তথা ভারতীয় সিনেমার বিতর্কিত ও প্রখ্যাত পরিচালক রামগোপাল বর্মার মনে জেগে উঠেছে এক চরম যন্ত্রণা ও ক্ষোভ।

শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্ট করে রামু সাফ জানালেন— তিনি মাইকেল জ্যাকসনকে ‘ঘেন্না’ করেন! তবে এই ঘৃণা কোনও শত্রুতা থেকে নয়, বরং এক চরম অন্ধ ভালবাসা ও অভিমান থেকে। ওঁর এই পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছে।


ছবিটি দেখার পর আরজিভি ফিরে গিয়েছেন ২০০৯ সালের ২৫শে জুনের সেই অভিশপ্ত সকালে, যেদিন মাইকেল জ্যাকসন শেষ নিঃশ্বাস  ত্যাগ করেছিলেন।রামগোপাল বর্মা লেখেন, “আমি মাইকেলকে ঘেন্না করি। ‘মাইকেল’ সিনেমাটা দেখার পর আমার মন আবার সেই ভয়ানক দিনটাতে ফিরে গেল— ২৫ জুন, ২০০৯। সেদিন রাতে ঘরের অন্ধকারে ভূতুরে গলার মতো টিভিটা চলছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠেই টিভির পর্দায় কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে সেই সাদা হরফগুলো আমার চোখে পড়ল: ‘মাইকেল জ্যাকসন প্রয়াত’। কয়েক সেকেন্ডের জন্য আমার মনে হয়েছিল আমি কোনো দুঃস্বপ্ন দেখছি। কিন্তু স্ক্রিনের সেই ব্রেকিং খবর আর সরেনি।”

?ref_src=twsrc%5Etfw">May 22, 2026

 

 

 

নিজের কলেজ জীবনের স্মৃতি হাতড়ে রামু  জানান, ১৯৮৪ সালের ২রা জানুয়ারি ওঁর এক বন্ধু ওঁকে বিজয়ওয়াড়ার এক নোংরা ভিডিও পার্লারে টেনে নিয়ে গিয়েছিল কিছু একটা দেখাবে বলে।

পরিচালকের ভাষায়, “ঘরের আলো নিভে গেল এবং ‘থ্রিলার’ গানটা আমার বুকে এসে একটা সজোরে ঘুষির মতো লাগল। ওটা শুধু একটা গান বা নাচ ছিল না, ওটা ছিল একটা আক্রমণ! মাইকেল যেভাবে স্ক্রিনে ভেসে বেড়াত, যেভাবে ডমিনেট করত, তা কোনও সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। ও কোনো মানুষ ছিল না, ও ছিল ভগবান বা দেবতাদের তৈরি কোনও রূপকথা।” রামু জানান, ওঁর গোটা কেরিয়ারে যখনই কোনও ছবির গান বা কোরিওগ্রাফি নিয়ে আলোচনা হতো, ঘুরেফিরে মাইকেলের ‘বিট ইট’, ‘বিলি জিন’, ‘স্মুথ ক্রিমিনাল’ বা ‘ব্যাড’-এর প্রসঙ্গ আসত। মাইকেলের তৈরি করা সেই মানদণ্ড আজও কোনও ফিল্মমেকার ছুঁতে পারেননি।

মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের নানা বিতর্ক বা কেলেঙ্কারি ওঁর প্রতি আরজিভি-র ভালোবাসায় কখনো চির ধরাতে পারেনি। কিন্তু তাহলে কেন তিনি পপ সম্রাটকে ঘেন্না করেন? সেসবের  এক অদ্ভুত ও মানসিক ব্যাখ্যা দিয়ে রামগোপাল বর্মা লিখেছেন -“আমি মাইকেল জ্যাকসনকে ঘেন্না করি কারণ ও মরে গেল! আমি ওঁকে ঘেন্না করি এটা প্রমাণ করার জন্য যে ও-ও একজন রক্তমাংসের সাধারণ মানুষ ছিল। আমি ঘেন্না করি যে আমাদের মতোই ওঁর বেঁচে থাকার জন্যও অক্সিজেন আর রক্তের দরকার হতো। ওঁর হার্টও যে এভাবে থমকে যেতে পারে, তা আমি মেনে নিতে পারি না। ও আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, ও আমার ফ্যান্টাসিটাকে খুন করেছে। ও স্বর্গ ছেড়ে মরণশীল মানুষ হয়ে গেল!”

পোস্টের শেষে আরজিভি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে লেখেন, “মাইকেল, তুমি আমার সুন্দর স্বপ্নটাকে দুঃস্বপ্নে বদলে দেওয়ার জন্য আমি তোমাকে ঘেন্না করি। আর আমি তোমাকে ভালবাসি। এতটাই ভালবাসি যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। তুমি ব্রহ্মাণ্ডের যে প্রান্তেই থাকো না কেন, আমি নিশ্চিত তুমি গ্যালাক্সির ওপর ‘মুনওয়াক’ করছ। বিজয়ওয়াড়ার সেই ভিডিও পার্লারে যে ঘোর আমার লেগেছিল, তা মরার দিন পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকবে।”


অ্যান্টোইন ফুকা পরিচালিত এবং জন লোগান লিখিত এই মিউজিক্যাল বায়োপিকটিতে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওঁর নিজস্ব ভাইপো জাফর জ্যাকসন । ওঁর অভিনয় বিশ্বজুড়ে কুর্নিশ কুড়োচ্ছে। ছবিতে মিলস টেলার, নিয়া লং এবং কোলম্যান ডোমিঙ্গোও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন। এই ছবির সাফল্যের জেরে বিশ্বজুড়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও মাইকেলের গানের ক্রেজ হু হু করে বাড়ছে, যার প্রমাণস্বরূপ ওঁর আইকনিক ট্র্যাক ‘বিলি জিন’ এই মুহূর্তে বিলবোর্ড গ্লোবাল ২০০ চার্টের শীর্ষে রাজত্ব করছে।