এপস্টাইন ফাইলস নিয়ে চর্চার অন্ত নেই। তার মধ্যে ফের উঠে এল এক ফাইলের সঙ্গে জড়িত থাকা মাইকেল জ্যাকসনের কথা। প্রয়াত কিংবদন্তির হয়ে সওয়াল করে কী বললেন অভিনেতা রাজীব আদাতিয়া? 

এদিন সমাজমধ্যকে মাইকেল জ্যাকসনের হয়ে একটি পোস্ট করেন রাজীব আদাতিয়া। তিনি ইনস্টাগ্রামের সেই পোস্টে লেখেন, 'এপস্টাইন ফাইলস পড়ার পর গোটা বিশ্ব এবং প্রতিটি মিডিয়া হাউজের উচিত মাইকেল জ্যাকসনের কাছে ক্ষমা চাওয়া।' কিন্তু কেন? তাঁর মতে, 'একজন মানুষকে গোটা বিশ্ব কাঠগড়ায় তুলেছিল শিশুদের ক্ষতি করার জন্য, যেখানে তিনি আদতে কিনা বাচ্চাগুলোকে বাঁচাচ্ছিলেন নিষ্ঠুর, ক্রুর, কোটিপতিদের লোভ লালসার হাত থেকে।' 

রাজীবের লেখা থেকেই স্পষ্ট এপস্টাইন ফাইলস পড়ার পর মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছিল সেটার কথা ভেবে তিনি বীতশ্রদ্ধ। তাঁকে জেনে বুঝে ক্রুশে ঝোলানো হয়েছিল অন্যান্য আরও ক্ষমতাশীল নামগুলো ঢাকা দেওয়ার জন্য, যেখানে তাঁর কোনও দোষ ছিল না। তিনি জড়িত ছিলেন না। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী, খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সঙ্গে ভুল করা হয়েছিল। 

রাজীব এদিন তাঁর পোস্টে এও জানান, নেভারল্যান্ড বাচ্চাদের ক্ষতি করার জন্য বানানো হয়েছিল, তাদের ক্ষতি করার জন্য নয়। এমনকী তিনি এও দাবি করেন মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে কখনও কোনও ভুল বা অন্যায় করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 

এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, বর্তমানে এপস্টাইন ফাইল নিয়ে চর্চা যেন থামছেই না। এই ফাইলসে ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে নরেন্দ্র মোদী, আম্বানি পরিবার সহ দুনিয়ার তাবড় তাবড় ব্যক্তিত্বদের নাম পাওয়া গিয়েছে। আর সেটা নিয়েই জারি জোর জল্পনা, চর্চা।

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত ফিনান্সার ও যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনের আন্তর্জাতিক প্রভাব যে ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, তা ফের স্পষ্ট হল মার্কিন বিচার দপ্তরের প্রকাশিত নতুন নথিতে। নথি অনুযায়ী, এপস্টাইন বহু বছর ধরে ভারতের প্রভাবশালী শিল্পপতি অনিল আম্বানির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। এই যোগাযোগের সময়কাল ২০১৭ থেকে ২০১৯ যে সময়ে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে নাবালিকা পাচারের অভিযোগে ফেডারেল তদন্ত এগোচ্ছিল।

প্রকাশিত টেক্সট মেসেজে দেখা যাচ্ছে, দু’জনের মধ্যে আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিল না শুধু ব্যবসা বা বিশ্ব রাজনীতিতে। মহিলা, ব্যক্তিগত পছন্দ ও গোপন সাক্ষাতের ব্যবস্থাও এই কথোপকথনের অংশ ছিল। ২০১৭ সালের ৯ মার্চ এক বার্তায় অনিল আম্বানি এপস্টেইনকে জিজ্ঞেস করেন, “Who do u suggest?” উত্তরে এপস্টেইন লেখেন, “a tall swedish blonde woman, to make it fun to visit।” মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আম্বানির জবাব আসে—“Arrange that।” এই সংলাপ এপস্টাইনের পরিচিত কৌশলের দিকেই ইঙ্গিত করে, যেখানে ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে তিনি বিলাস ও মহিলার প্রসঙ্গ ব্যবহার করতেন বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে।