বলিউডের অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর আবারও সরব হলেন। এবারের নিশানায় নেটাগরিকদের একাংশ। মা হওয়ার পর মেয়েদের ওজনবৃদ্ধি নিয়ে যাঁরা নেতিবাচক কথা বলেন, হেনস্থা করেন, তাঁদের একহাত নিলেন স্বরা৷
সম্প্রতি একটি পুরনো ছবি পোস্ট করার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে শুরু হয় তুলনামূলক ট্রোলিং— “আগে কেমন ছিলেন, এখন কেমন হয়ে গেছেন!” সেই কুরুচিকর মন্তব্যের প্রতিবাদ করলেন স্বরা।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রাজনীতিবিদ ফাহাদ আহমদকে বিয়ে করেন স্বরা৷ কয়েক মাস পর কন্যা রাবিয়ার জন্ম দেন স্বরা। মাতৃত্বের পর স্বাভাবিকভাবেই তাঁর শরীরে এসেছে পরিবর্তন। ওজনবৃদ্ধির জন্য বিদ্রুপ করা হয় তাঁকে৷ কেউ ২০১৮ সালের তাঁর ছবির পাশে এখনকার ছবি বসিয়ে তৈরি করেছেন কুরুচিকর মিম— ক্যাপশনে লেখা, “এ কী খেয়েছে!”
চুপ থাকেননি স্বরা৷ নিজের পুরনো ছবির পাশে এক হাতে কন্যাকে ধরে রাখা সাম্প্রতিক ছবি জুড়ে এক কোলাজ পোস্ট করেন। তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট— মাতৃত্ব-পরবর্তী এই শারীরিক পরিবর্তনে তিনি বিন্দুমাত্র লজ্জিত নন।
তিনি লেখেন, “একজন নারীর শরীর গর্ভাবস্থায় অসামান্য ভূমিকা পালন করে— সে একটি প্রাণকে ধারণ করে, লালন করে এবং পৃথিবীর আলোয় নিয়ে আসে। সেই শরীর পরিবর্তিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। অথচ সমাজ চায়, প্রসবের পরেই যেন সেই নারী আগের মতো হয়ে যান। এই প্রত্যাশা শুধু অন্যায় নয়, রীতিমতো নিষ্ঠুর।”
এক সাক্ষাৎকারে স্বরা আরও সোজাসুজি বলেছেন, “প্রসবের ঠিক পরেই বাউন্স ব্যাক না করার জন্য আমাকে ট্রোল করা হয়েছে, ফ্যাট-শেম করা হয়েছে। সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য কাজ থেকে বিরতি নেওয়ার জন্যও সমালোচিত হয়েছি। এটা আমাদের সমাজের কতটা বোকা, ক্ষুদ্র এবং নারীবিদ্বেষী মনোভাবের প্রতিফলন— তারই প্রমাণ। নারীরা যাই করুক, তারা কখনও জিততে পারে না।”
যাঁরা তাঁর ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে কেরিয়ারের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদেরকে স্বরা বলেন, “প্রতিভা এবং অভিনয়ের ক্ষমতার সঙ্গে শরীরের ওজন বা চেহারার কোনো সম্পর্ক নেই।”
স্বরা একা নন। সাম্প্রতিক সময়ে বিপাশা বসু, ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন, সমীরা রেড্ডি মাতৃত্ব-পরবর্তী ওজনবৃদ্ধি নিয়ে ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েছেন।
স্বরার এই প্রতিবাদ শুধু নিজের জন্য নয়— লক্ষ লক্ষ সাধারণ মায়ের জন্যও। স্বরা বলেছেন, “অধিকাংশ সময় আমি এসব উপেক্ষা করি। কিন্তু কখনো কখনো ট্রোলদের কড়া জবাব দিই, কারণ আমি বিশ্বাস করি— এই ধরনের অর্থহীন বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করাই উচিত।”















