গরমের ছুটি জমজমাট করতে আসছে  উইন্ডোজ প্রোডাকশন হাউজ প্রযোজিত, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায় পরিচালিত ছবি 'ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড'।  এই মার্ডার-মিস্ট্রিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন রজতাভ দত্ত। ছবিতে তাঁর অভিনীত চরিত্র 'বাল্মীকি গড়াই' থেকে শুরু করে নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সঙ্গে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে ভাগ করে নিলেন তিনি। আলোচনায় ছুঁয়ে গেল শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ বন্ধুত্বের কথাও। 


“খুব থমথমে একটা মার্ডার মিস্ট্রি। গল্পে এতগুলো চরিত্র, প্রত্যেকের মধ্যে একটা আন্ডারকারেন্ট বইছে। জমিদার বাড়িতে খুনের তদন্ত করতে আসে আমার চরিত্রটি বাল্মীকি গড়াই। ধূসর ব্যাপার নিশ্চয়ই রয়েছে তাঁর মধ্যে কিন্তু তাঁকে দেখে দর্শক একটা রিলিফ পাবেন থমথমে আবহাওয়ার মধ্যেও। এটুকু বলতে পারি আপাতত।” 

পুরনো স্মৃতি হাতড়ে রজতাভ বলে চললেন, “আর শিবপ্রসাদের সঙ্গে আমার আলাপ ৩৬ বছর আগে। প্রায় চার দশকের এই বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে পোক্ত হয়েছে। নয় দশকে একেবারে শুরুতে শিবু তখন কলেজের ছাত্র। মঞ্চে অভিনয় শুরু করেছে। আমিও তখন ওই একই দলে অভিনয় করি। জমে যায় আমাদের বন্ধুত্বটা। এরপর ও অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালিখি শুরু করল। আজকের মতো এতটা জমাটি না হলেও তখনই ও চমৎকার লিখত। শিবুর লেখা প্রথম চিত্রনাট্যর প্রথম পাঠক ছিলাম আমি। এও জানিয়ে রাখি, নন্দিতাদি এবং ওর 'ইচ্ছে' ছবিটি কিন্তু আমাকে প্রথম দেখিয়েছিলেন ওঁরা। ওঁদের অফিসে বসে, প্রজেক্টরে দেখেছিলাম একা।” 

 

 

 


আজকাল শুটিং সেটে পরিচালকদের মেজাজ হারানো বা চিল-চিৎকার করা একপ্রকার চেনা ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু উইন্ডোজের সেটে সেই চেনা ‘টক্সিক’ পরিবেশের সম্পূর্ণ উল্টো অভিজ্ঞতা হয়েছে রজতাভর। নন্দিতা-শিবুর কাজের পদ্ধতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, “ শিবুর নির্দেশনায় এই প্রথমবার কাজ আমার। খুব সন্তুষ্ট আমি ওঁদের সংস্থায় কাজ করে। ওঁদের নির্দেশনায় কাজ করে। আসলে, কী জানেন তো নন্দিতাদি-শিবুর পোস্ট প্রোডাকশন কাজটা এত পোক্ত থাকে যে শুটিংয়ের সময় কোনও সমস্যা হয় না। আর তার ফলে কোনও চাপা টেনশন কাজ করে না, শুটিং ফ্লোর জুড়ে চিৎকার, গালাগালি ভেসে আসে না। কোনও অসভ্যতা হয় না।মাথাগরম হয় না। আর একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছি। এখন আমার বয়সটা খানিকটা বেড়েছে...তাই সরাসরি হয়তো আমাকে কেউ কিছু বললো না কিন্তু বাকিদের উপর চিল-চিৎকার করা হল। এ যেন অনেকটা ঝি-কে মেরে বৌকে বোঝানো! তাতেও অভিনেতার কাজে ক্ষতি হয়। এই শুটিং সেটে সেসবের কোনও ছাপ ছিল না। তাই বেশ একটা হৈহৈ করে সময় ধরে দিব্যি কাজ হয়ে যায়। ”

আর এই কারণেই ওঁদের টিম বাকি অনেক প্রোডাকশন টিমের থেকে আলাদা। বুঝিয়ে বলি একটু। এই যে যখন ‘ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ’ মেজাজ হারাচ্ছেন না, স্বভাবতই হায়ার্কি মেপে সেটের বাকিরাও তেমন পরিবেশ বজায় রাখছে। মানে বলতে  চাইছি, সবার উপরে থাকা মানুষটি যদি এই অসম্ভব কাজের চাপে মেজাজ হারিয়ে চিৎকার, গালাগালি শুরু করে, পরপর ধাপে থাকা মানুষগুলোও অটোমেটিক্যালি তাই-ই করবে। আর তার ফলে কী হবে, চাপটা পড়বে শিল্পীদের উপর। ক্ষতি হবে ছবির। এটাই অনেকে বোঝেন না। ফলে, নন্দিতাদি-শিবুর নির্দেশনায় ওঁদের প্রোডাকশনে এই পরিবেশে কাজ করা কিন্তু একজন পারফর্মিং আর্টিস্টের পক্ষেও দারুণ। কাজের প্রতি সেই অভিনেতার মনোনিবেশ যেমন বাড়ে, তেমনই একটা বাড়তি আত্মবিশ্বাস কাজ করে। মানে, একটা আধুনিক শুটিং সেটের পরিবেশ যেমন হওয়া উচিত, ঠিক তেমন। 

খানিক থামলেন রজতাভ। খানিক আবেগপ্রবণ হয়ে অভিনেতা বলেন, “দেখুন, শুটিংয়ে ডেডলাইনের একটা চাপ থাকে। সেটা অস্বীকার করছি না। তার চাপে অনেক পরিচালক মেজাজ হারান ....নন্দিতাদি-শিবুর ক্ষেত্রে তা হয় না। ফলে তাঁদের ছবির সেটের স্যানিটি নষ্ট হয় না। আমরা যখন কাজ করতে এসেছিলাম, টলিপাড়ায় তখনও এরকম বেশ কয়েক পরিচালক ছিলেন। তাঁদের শুটিং পরিবেশ ঠিক এরকম ছিল। ধীরে ধীরে সেটা হারিয়ে গিয়েছে। তবে নন্দিতাদি-শিবুর ছবির সেটে কিন্তু সেই পরিবেশ ফিরে পেয়েছি।”