১৯৮০-৯০ এর দশকে একাধিক ছবিতে একত্রে কাজ করেছেন তাঁরা। আর সেই কাজ করতে গিয়েই বাড়ে ঘনিষ্ঠতা। ২০০৪-০৫ সাল থেকে একসঙ্গে থাকাও শুরু করেন, আজকালকার ভাষায় যেটাকে লিভ ইন বলে। কিন্তু কখনও বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হননি তাঁরা। ক্যান্সারের রোগী এই প্রেমিকার সঙ্গে দীর্ঘ ১৩ বছর লিভ ইন করেন দক্ষিণী তারকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গিয়ে ভাঙে তাঁদের সেই সম্পর্ক। কেন? 

কথা হচ্ছে কমল হাসান এবং গৌতমী তাডিমাল্লার। তাঁরা একসঙ্গে ১৩ বছর থেকেছেন। প্রকাশ্যে নিজেদের সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিয়েছেন। একসঙ্গে বিভিন্ন ইভেন্টে গিয়েছেন। কিন্তু বিয়ে? সেটা করেননি। কেন? কারণ বিয়ে নিয়ে দু'জনেরই অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল। তাই বিবাহিত জীবনের বদলে তাঁরা একে অন্যের সঙ্গে এমনই সঙ্গী হিসেবে থাকাকে বেছে নিয়েছিলেন। 

বিয়ে না করলেও গৌতমী কমল হাসানের পরিবারকে সামলাতেন। পারিবারিক সমস্ত দায়, দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই ছিল। অভিনেতার মেয়েদের সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। কেবল পারিবারিক জীবনেই নয়, কমল হাসানের কেরিয়ারেও গৌতমীর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি সমস্ত কিছুতেই তাঁর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। 

কেবল অভিনেত্রী নন, কমল হাসানও সমান ভাবে তাঁকে আগলে রাখতেন। তাঁর পাশে থেকেছেন। ২০০৪ সালে গৌতমীর ক্যান্সার ধরা পড়ে। সেই কঠিন লড়াইয়ে অভিনেত্রী তাঁর পাশে কমল হাসানকে পেয়েছিলেন। বহুমূল্য চিকিৎসা করিয়ে প্রেমিকাকে সুস্থ করে তোলেন দক্ষিণী তারকা। একদিকে যেমন তাঁর বিয়ে না করা চর্চার বিষয় ছিল, তেমনই অন্যদিকে তাঁদের একে অন্যের পাশে ঢাল হয়ে থাকাও সমান চর্চার বিষয় ছিল। 

তবে ২০১৬ সালে তাঁরা তাঁদের সম্পর্কে ইতি টানেন। গৌতমী নিজেই এই দুঃসংবাদ ঘোষণা করেন। যদিও কেন তাঁরা বিচ্ছেদের পথে হেঁটেছেন সেটা কখনই দুই তারকার কেউই খোলসা করেননি, কিন্তু তাঁরা ১৩ বছরের লিভ ইন সম্পর্কে ইতি টানায় অবাক হয়েছিল তাঁদের অনুরাগীরা। 

মূলত মেয়েদের ভাল থাকা এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভাবনাচিন্তা করে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে গৌতমী জানিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, এও জানান তাঁদের সম্পর্কের প্রতি কমল হাসানের যে কমিটমেন্ট ছিল সেটাও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছিল। দু'জনের প্রত্যাশা, চাহিদা, প্রায়োরিটি আলাদা হয়ে গিয়েছিল। আর সেটারই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল তাঁদের জীবনে। সেই কারণেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিচ্ছেদের আগে কমল হাসানের দুই মেয়ে এবং গৌতমীর মেয়েকে নিয়ে তাঁরা একসঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন পরিবারের মতো।