১৯ জুন মুক্তি পেল 'অভিমান'। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত পরিচালিত, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় অভিনীত ছবির বিরুদ্ধে সুমন ঘোষ এদিন সকালে একটি পোস্ট করেন, যা দেখে সমাজমাধ্যমে স্ক্রিপ্ট চুরির জল্পনা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সুমন ঘোষের দাবি, তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে তাঁর একটি স্ক্রিপ্ট পড়ে শুনিয়েছিলেন যার সঙ্গে 'অভিমান' ছবিটির বেশ কিছু মিল আছে। এদিন 'অভিমান' -এর প্রিমিয়ারে এসে 'চোর' তকমা প্রসঙ্গে মুখ খুললেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "সুমন আমার ছোট ভাই। কাল একটা মেল পাঠিয়েছে। তারপর ওর সঙ্গে এক ঘণ্টা কথা বলেছি। আজ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছে, তারপর যিশুর তরফে, মানে প্রযোজনা সংস্থার তরফে যে বিবৃতি দেওয়ার ছিল, দেওয়া হয়েছে। আমিও লিখেছি। আমার খালি একটাই কথা, অনেকগুলো জিনিস দেখছি বা শুনছি। কারণ সুমন কখনই সিনেমা, গল্প চুরি নিয়ে কথা বলেনি। কিন্তু মানুষজন বলতে শুরু করে দিয়েছেন আমরা গল্প চুরি করেছি। যদি আমি গল্প চুরি করে থাকি, আমি সুমনকে অনুরোধ করব, ওর স্ক্রিপ্ট ওর বিশ্বস্ত মানুষকে শোনাক, আর অভিমান পুরো খোলা, মানুষের সামনে এসে গিয়েছে। তাঁরা বিচার করুন গল্প বা চরিত্র কী মিল আছে না নেই। আমি ওর গল্প নিয়ে কথা বলব না কারণ ওটা আমার ডেকরামের মধ্যে পড়ে না। এর বাইরে আমি কিছু বলতে চাই না। তবে আমি মনে করি, এভাবে 'চোর, চোর' বদনাম দেওয়া আমার ৪০ বছরের কেরিয়ারের সততাকে প্রশ্ন করে। যদি আমি অন্যায় করে থাকি, বলতে পারি। কিন্তু অভিনেতা হিসেবে এক একজন পরিচালক, প্রযোজক ৩০-৪০ টা করে ছবি করেছেন।"
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এদিন আরও বলেন, "আমি কাল ওকে ফোন করেছিলাম 'অভিমান' ভাঙানোর জন্য। ক্রিয়েটিভ মানুষদের অভিমান হবেই। আর সারাদিনে দেখলাম, যে অভিযোগ সুমন করেনি, সেটা নিয়ে লেখালিখি আরম্ভ হয়ে গিয়েছে। এমন করছে যেন গল্প চুরি করেছি। আমি আমার কেরিয়ারে অন্তত ১০০ টা পুলিশ অফিসারের চরিত্র করেছি। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ক্রিমিনালের চরিত্র করেছি। এটা তো অভিনেতাদের স্বাধীনতা। আমার এই স্বাধীনতাটাকে কেন কেড়ে নেওয়া হবে?"
ইন্ডাস্ট্রির প্রশ্ন, "আমায় চোর বলছে। আমি কী চুরি করব? একজন অভিনেতার আইপিআরের উপর কোনও অধিকার নেই। কোনও লেখকের যেমন আইপিআর থাকে, তেমন ফেলুদা, কাকাবাবু, সেখানে রাইটসের ব্যাপার থাকে। অভিনেতা হিসেবে আমার কোনও অধিকার নেই। চরিত্র বাছার অধিকার আমার আছে। পারিশ্রমিক নিয়ে করি। কারও জন্য ১০ টাকা বেশি নিই, কারও জন্য কম। আমাকে এরা পারিশ্রমিক দিয়েছে। আমার সুমনের বিরুদ্ধে কোনও রাগ, কষ্ট নেই। ওর অভিমান ভাঙানোর জন্য প্রস্তুত। কালকেও ওকে বুঝিয়েছি যে ওর ছবিটা করা যায়। দু'টোর কোনও মিল নেই। কিন্তু ৪০ বছর কাজ করার পর আমায় 'চোর' বলে দিচ্ছে, আমি বোধহয় এটা ডিজার্ভ করি না। নতুন প্রজন্মের অনেকে আমার কাছে আসেন, তাঁদের কাছে এতে ভুল বার্তা যাচ্ছে যে তাঁদের গল্প আমি চুরি করব কিনা। অভিনেতা হিসেবে কোন চরিত্রে অভিনয় করব সেটা বাছার অধিকার আমার আছে, এর বাইরে কিছু না।"















