কখনও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের স্বাধীনতা হরণ, তো কখনও টলিউড বা বলিউডের অন্দরে ঠান্ডা লড়াই— বিনোদন জগতের অলিন্দে বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। এবার অক্ষয় কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘আইডিয়া চুরি’ এবং ‘প্রতারণা’র মারাত্মক অভিযোগ তুললেন বর্ষীয়ান অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। ২০২৩ সালের অন্যতম ব্লকবাস্টার ছবি ‘ওএমজি ২’-এর আসল কৃতিত্ব এবং গল্প তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল বলে এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে দাবি করলেন পরেশ। কিন্তু অক্ষয়ের এন্ট্রির পরেই নাকি রাতারাতি বদলে যায় ছবির চিত্রনাট্য, এমনকি পরেশ রাওয়ালকে কোনও ক্রেডিট পর্যন্ত দেওয়া হয়নি!
সেই সাক্ষাৎকারে বলিউডের এই নোংরা রাজনীতি ও বঞ্চনা নিয়ে মনের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। পরেশ রাওয়াল জানিয়েছেন, ‘রোড টু সঙ্গম’ ছবির পরিচালক অমিত রাইয়ের সঙ্গে বসে তিনিই প্রথম এই ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য তৈরি করেছিলেন। এটি কোনওভাবেই 'ওএমজি'-র সিক্যুয়েল বা ধর্মীয় ছবি হিসেবে ভাবা হয়নি।
গল্পটি ছিল এক বাবা ও ছেলের লড়াইয়ের -

আসল থিম: একটি স্কুলের ছেলের হস্তমৈথুনের ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। সমাজে চরম অপমান ও অবহেলার মুখোমুখি হওয়া সেই ছেলেকে আইনি ও সামাজিকভাবে বাঁচানোর লড়াইয়ে নামে তাঁর বাবা।
মহাকাল মন্দিরের পুরোহিত: পরেশ চেয়েছিলেন ছেলেটির বাবা হোক এক টুরিস্ট গাইড। কিন্তু পরিচালক অমিতের পরামর্শে চরিত্রটিকে মহাকাল মন্দিরের পার্ট-টাইম পুরোহিত করা হয়।

কোনও ঈশ্বরের ব্যাপার ছিল না: পরেশের চিত্রনাট্যে কোনও দৈব চরিত্র বা শিবের দূত বলে কেউ ছিল না। বরং এক বাইকার চরিত্র (যেমনটা 'মুকদ্দর কা সিকান্দার' ছবিতে কাদের খান করেছিলেন) সেই বাবাকে আইনি ও মানসিক লড়াইয়ে পথ দেখাত।

“আমরা চেয়েছিলাম ছবিটা যেন অত্যন্ত শিক্ষণীয় অথচ বিনোদনমূলক হয়। কোনও নোংরামো বা অশ্লীলতা যাতে না থাকে, তার জন্য আমরা দেশের প্রখ্যাত সেক্সোলজিস্ট ডঃ প্রকাশ কোঠারিকেও আমাদের সাথে যুক্ত করেছিলাম” দাবি, পরেশ রাওয়ালের। বর্ষীয়ান অভিনেতা সাফ জানান, তিনি ইচ্ছে করেই ছবিটির জন্য অক্ষয় কুমারের কাছে যাননি। কারণ অক্ষয় এলেই দর্শক ধরে নিত এটি 'ওএমজি ২', অথচ তাঁরা একটি সম্পূর্ণ নতুন ছবি বানাতে চেয়েছিলেন। সেই বাইকার চরিত্রের জন্য তিনি অজয় দেবগণন এবং সলমন খানের কাছেও গিয়েছিলেন, কিন্তু ছবির বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তাঁরা রাজি হননি।

তাহলে অক্ষয়ের হাতে এ গল্পের চিত্রনাট্য গেল কীভাবে? পরেশের দাবি, চিত্রনাট্যের ওপর খসড়া হিসেবে ‘ওএমজি ২’ লিখে রেখেছিলেন পরিচালক অমিত রাই। আর সেই চিত্রনাট্য প্রযোজক অশ্বিন ভার্দের হাত ধরে পৌঁছে যায় 'খিলাড়ি'র কাছে। অক্ষয় সেই চিত্রনাট্যটি পড়া মাত্রই ছবিটি করতে রাজি হয়ে যান এবং এটিকে ওএমজি ২' ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন।

 

ছবিটি যখন সম্পূর্ণ ভিন্ন ট্র্যাকে হাঁটতে শুরু করে, তখন পরেশ রাওয়াল নিজেকে এই প্রজেক্ট থেকে সরিয়ে নেন। পরেশ বলেন, “অক্ষয় নিজে আমাকে ফোন করে ছবিতে অভিনয় করার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু আমি সরাসরি না বলে দিই। আমি ওকে বলি— ‘এই ছবিটা আমি যেভাবে ভেবেছিলাম, তা নয়। এই গল্পে ঈশ্বরের কোনও ভূমিকাই ছিল না।’ আমি চিত্র্যনাট্যটার সঙ্গে শুরু থেকে জড়িয়ে ছিলাম, তাই আমার পক্ষে এই পরিবর্তন মেনে নেওয়া অসম্ভব ছিল।”

পরেশ সরে যাওয়ার পর তাঁর জন্য নির্ধারিত বাবার চরিত্রটি দেওয়া হয় পঙ্কজ ত্রিপাঠিকে এবং অক্ষয় কুমার পর্দায় হাজির হন ‘শিবের দূত’ হিসেবে। এই প্রজেক্ট থেকে সরে গেলেও পরেশ রাওয়ালের সবচেয়ে বড় দুঃখ রয়ে গেল যে ওঁর প্রাপ্য সম্মানটুকু না দেওয়া। ছবিতে বা পোস্টারে কোথাও আইডিয়া বা কনসেপ্টের জন্য ওঁর নামটুকুও রাখা হয়নি! এ প্রসঙ্গে ক্ষোভের সুরে পরেশ বলেন, “সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হল আমাকে একটা সামান্য ক্রেডিটও দেওয়া হয়নি। অথচ অমিত রাই, অক্ষয় কুমার, অশ্বিন ভার্দে, অজয় দেবগণ, করণ জোহর এবং সলমন খান— প্রত্যেকেই ভাল করে জানতেন যে এই ছবির  আইডিয়া এবং এই গল্পটা পুরোপুরি আমার ছিল।”

উদ্বেগজনক বিষয় হল, মুক্তির আগে ছবিটিতে অক্ষয় কুমারের ‘শিবের দূত’ চরিত্র এবং যৌন শিক্ষার মেলবন্ধন নিয়ে সেন্সর বোর্ড ব্যাপক আপত্তি তুলেছিল এবং শেষমেশ বহু কাটছাঁটের পর এটি ‘এ’ সার্টিফিকেট পায়। পরেশ রাওয়াল মনে করেন, যদি তাঁর আসল চিত্রনাট্য অনুযায়ী ছবি তৈরি হতো, তবে এই আইনি জট ও বিতর্কের মুখে ছবিটিকে পড়তেই হত না।