সদ্যই বঙ্গভূষণ পেয়েছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে ভাষা দিবসের দিন এই সম্মান পাওয়ার অভিজ্ঞতাও জানিয়েছেন। তারপরই এদিন হঠাৎই স্মৃতিমেদুর পোস্ট ভাগ করে নিলেন। কেনই বা লিখলেন, 'নিয়তির অন্য ইচ্ছে ছিল।' 

পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এদিন ইনস্টাগ্রামে একাধিক ছবি পোস্ট করেন। সঙ্গে স্মৃতির পথ ধরে ফিরে যান ১৯৯৯ সালে। তুলে ধরেন অভিনেতা হওয়ার গল্প। 

বঙ্গভূষণ পরমব্রত এদিন তাঁর পোস্টের ক্যাপশনে লেখেন, 'সময়টা ১৯৯৯ সালের নভেম্বর মাসের শেষ দিক। আমি ইন্দ্রপুরী স্টুডিওর ভিতরে প্রথমবার প্রবেশ করি, প্রথমবার কোনও সিনেমা বা টিভির ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর জন্য। হাফ চকলেট ছিল শোয়ের নাম। আমি সবসময় ছবি বানাতে চেয়েছিলাম। কখনও অভিনেতা হওয়ার পরিকল্পনা ছিল না কোনও। আইকনিক অঞ্জন দত্তের সঙ্গে কাজ করি, এবং সামনে থেকে ছবি বানানোর পদ্ধতি দেখি। কিছু পকেট মানি পাওয়ার লোভকে অস্বীকার করব না। এটাকে নিয়ে এগোনোর কোনও পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু নিয়তির অন্য কিছু ইচ্ছে ছিল।' 

অভিনেতা তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, 'বছর দেড়েকের মধ্যে আমি রেগুলার টিভি অভিনেতা হয়ে গেলাম। মৈনাক উপাখ্যান, অন্তরালে, এক আকাশের নিচে, একাধিক টেলি ফিল্ম থেকে উৎসবের রাত্রি পর্যন্ত। উৎসবের রাত্রি ছিল আমার শেষ ধারাবাহিক, যেটা এই স্টুডিওর বিভিন্ন ফ্লোরে হয়েছিল। আজ আমি আবার সেই স্টুডিওতে গিয়েছিলাম। কেন? সেটা কিছুদিনের মধ্যেই সবাই জানতে পারবেন। ১৫ বছর পর এখানে ফিরে নস্টালজিক হয়ে পড়লাম। প্রতিটি পরিচালক, প্রযোজক, সিনেমাটোগ্রাফার, মেকআপ আর্টিস্ট, সহঅভিনেতা, সহ প্রায় সবাইকে মনে আছে। সময় দ্রুত কেটে জয়ম আমার জন্য তো প্রায় ২৫ বছরের বেশি সময় কেটে গিয়েছ, অনেক ওঠা পড়া, হাসি কষ্ট, সাফল্য পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে। প্রতিভা বসু তাঁর বইয়ের নাম একদম সঠিক দিয়েছিলেন, স্মৃতি সততই সুখের। ঠিক ছিলেন জনি মিশেল। আমরা সবাই সময়ের হাতে বন্দি।' 

এদিন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের এই পোস্টে স্পষ্ট যে তিনি শীঘ্রই তাঁর নতুন কাজের ঘোষণা করবেন। একই সঙ্গে তাঁর এই নস্টালজিয়ায় ভরা পোস্ট দেখে মন্তব্য করেছেন তাঁর সহকর্মী পার্নো মিত্র এবং মনামী ঘোষ।

বঙ্গভূষণ পাওয়ার পর অভিনেতা আজকাল ডট ইনকে বলেন, "আমি খুবই খুশি। নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছি। এটা আদের রাজ্যের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান। সেটার যোগ্য যে আমাকে মনে করা হয়েছে তার জন্য আমি অত্যন্ত খুশি। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে এই পুরস্কার পেয়ে আরও ভাল লাগছে। সবথেকে বড় কথা আজকে ২১ ফেব্রুয়ারি। আজকের দিনে এটা পেয়ে ভীষণ ভাল লাগছে। অন্য কোনও দিন পেলেও নিশ্চয় ভাল লাগত। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে এত বড় পুরস্কার পেলে সবসময়ই ভাল লাগে। কিন্তু আজকের পাওয়াটা যেন ব্যাপারটাকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।"