বিতর্ক থামছে না ‘ননসেন’ শমীক অধিকারীকে নিয়ে। আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পেলেন না তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার। বরং এবার তিনি আরও বিপাকে। ১৬ মার্চ, সোমবার তাঁকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। সূত্রের খবর, শমীকের ফোন থেকে বেশ কয়েকটি আপত্তিজনক ভিডিও উদ্ধার হয়। আর তা নিয়ে তৈরি হয় নতুন জটিলতা।

 

 

এদিন শুনানি থেকে বেরিয়ে শমীক নিজের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, "আমার পাশে যাঁরা আছেন তাঁদের হতাশ করব না। আমি বেরিয়ে সব সত্যিটা জানাব। আমার সত্যিটা শুনে কেউ হতাশ হবেন না। যাঁরা আমার পাশে ছিলেন, তাঁরা দয়া করে থাকুন।"

 

 

এদিন তিনি আরও বলেন, "আমি আবারও বলছি আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে, আমি নির্দোষ।" পুলিশ ভ্যানে ওঠার সময় 'ননসেন'-এর ঝটতি জবাব, "আবারও বলছি, আমার পাশে যাঁরা ছিলেন, আছেন তাঁদের কাউকে হতাশ করব না।"

 

 

জানা গিয়েছে, শুনানির সময় শমীকের আইনজীবী অভিযোগকারিণীর বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর সওয়াল, ঘটনাটি ঘটার পর বেশ কিছুদিন কেটে যাওয়ার পর কেন নতুন করে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হল? যদি অভিযোগ সত্যিই হয়ে থাকে, তবে তা আগে প্রকাশ্যে আনা হয়নি কেন, এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

 

 

এর জবাবে অভিযোগকারিণীর আইনজীবী জানান, এমন সংবেদনশীল ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনতে অনেক সময় মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। ট্রমা কাটিয়ে ওঠা এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস সঞ্চয় করতে তাঁর সময় লেগেছে বলেই দাবি করা হয়।

 

পাশাপাশি এও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ইনফ্লুয়েন্সারের বাবা-মায়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হতে পারে। কারণ অভিযোগকারিণীর দাবি, পুরো ঘটনাটি তাঁদের উপস্থিতিতেই ঘটেছিল। ফলে তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে বিষয়টি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

 

 

সেদিন ঠিক। কী ঘটেছিল? পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২২ বছর বয়সি এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতেই এই মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, বেহালা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে বন্দি করে রেখেছিলেন শমীক। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধে পর্যন্ত ওই ফ্ল্যাটেই আটকে রাখা হয় তাঁকে।

 

অভিযোগকারিণীর আইনজীবীর তরফে জানানো হয়েছিল, শমীক তাঁর পরিচিত বন্ধু। বাড়ি বদলের সময় সাহায্যের অজুহাতে তাঁকে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠান শমীক। এরপরই তরুণীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সারারাত ধরে তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ। তরুণী পুলিশের দ্বারস্থ হতেই শমীক বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। সেই সময় থেকেই তাঁর মা-বাবারও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে পুলিশ সূত্রে খবর। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দমদম এলাকা থেকে শমীককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার বেহালা থানা থেকে অভিযুক্তকে আলিপুর আদালতে আনা হয়েছে। ওইখানেই অভিযোগকারিণীর গোপন জবানবন্দি চলেছে। আলিপুর আদালত চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে শমীক জোর গলায় দাবি করেছিলেন, “আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।”

 

 

উল্লেখযোগ্য বিষয়, মাত্র কয়েকদিন আগেই ‘বাটন’ নামে একটি ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন শমীক। তাঁর সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়েছিলেন অনুরাগীরা। তারপরেই এই ঘটনার ফলে অনেকে রাজনৈতিক যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন। তবে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনা একান্তই ব্যক্তিগত, এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক যোগসূত্র নেই।