সম্প্রতি জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর 'ননসেন' ওরফে শমীক অধিকারীর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা, জোর করে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে নির্যাতন, মারধরের অভিযোগ জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয় এক মহিলা। সঙ্গে সম্প্রতি জুড়ে দেওয়া হয় ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলা। ৬ ফেব্রুয়ারি আলিপুর আদালতে পেশ করা হয় শমীককে। সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেলেন না 'ননসেন'। 

জানা গিয়েছে, জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগের কারণেই জামিনের বদলে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শমীক অধিকারীকে। অভিযোগকারিণীর শরীরের বিভিন্ন জায়গা, এমনকী গোপনাঙ্গেও রয়েছে আঘাতের চিহ্ন। 

এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, ২২ বছর বয়সী অভিযোগকারিণীর হয়ে এই মামলা লড়ছেন গোপাল হালদার। অন্যদিকে শমীক অধিকারীর হয়ে লড়ছেন বিজেপি ঘনিষ্ট আইনজীবী। 

কী ঘটেছিল? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২২ বছর বয়সি এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতেই এই মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, বেহালা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে বন্দি করে রেখেছিলেন শমীক। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ফ্ল্যাটেই আটকে রাখা হয় তাঁকে।

অভিযোগকারিণীর আইনজীবী অভিষেক দে বিশ্বাস জানান, শমীক তাঁর পরিচিত বন্ধু। বাড়ি বদলের সময় সাহায্যের অজুহাতে তাঁকে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠান শমীক। এরপরই তরুণীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সারারাত ধরে তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ। তরুণী পুলিশের দ্বারস্থ হতেই শমীক বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। সেই সময় থেকেই তাঁর মা-বাবারও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে পুলিশ সূত্রে খবর। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দমদম এলাকা থেকে শমীককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার বেহালা থানা থেকে অভিযুক্তকে আলিপুর আদালতে আনা হয়েছে। ওইখানেই অভিযোগকারিণীর গোপন জবানবন্দি চলেছে। আলিপুর আদালত চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে শমীক জোর গলায় দাবি করেন, “আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।”

উল্লেখযোগ্য বিষয়, মাত্র কয়েকদিন আগেই ‘বাটন’ নামে একটি ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন শমীক। তাঁর সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়েছিলেন অনুরাগীরা। সেই মানুষটিই এখন গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার। যিনি কয়েকদিন আগে অনলাইন দুনিয়ায় ‘নায়ক’ হয়ে উঠেছিলেন, তাঁকেই চাদরে মুখ ঢেকে থানায় নিয়ে যেতে দেখা যায়।