নিজস্ব সংবাদদাতা: ৭০তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপকের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন আনন্দ আঢ্য। ‘অপরাজিত’ ছবির সৌজন্যে প্রোডাকশন ডিজাইনার বিভাগে সেরার তকমা পেয়েছেন তিনি। এই প্রথম জাতীয় পুরস্কার পেলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে আজকাল ডট ইন-কে তিনি বললেন, “আনন্দের খবর। বেঁধে দেওয়া কম বাজেটে আমরা যে ধরনের কাজ করি সেগুলির ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতি বড় পাওনা তো বটেই। পরিচিতিও খানিক বাড়ায়। তবে জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার সঙ্গে শিল্পীর কেরিয়ারে গতি পাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। নিজের কর্মক্ষমতার জেরেই একমাত্র তা পাওয়া সম্ভব বলে মনে করি”।
টলিপাড়ার কোন ব্যক্তিত্বরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আনন্দ আঢ্যকে? জবাব এল “ফেসবুকে অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ফোন করে ইন্ডাস্ট্রির তেমন বড় কোনও নাম শুভেচ্ছা জানাননি”।
প্রসঙ্গ ওঠে ‘অপরাজিত’র পরিচালক অনীক দত্তকে নিয়েও। “অনীকদাকে আমার কথা প্রথমবার বলেছিলেন সন্দীপ রায়। বাবুদের ছবিতে কাজ করছি 'ডাবল ফেলুদা' থেকে। বাবুদের কথা শুনেই অনীকদা আমাকে ওঁর ছবিতে নিয়েছিলেন। অনীকদা সমন্ধে ইন্ডাস্ট্রির অনেকে নিন্দা করেন। ওঁর কাজের ধরন নিয়ে অনেকের সমস্যা। কিন্তু সত্যি কথা হল অনীকদা প্রচণ্ডভাবে নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলা একজন মানুষ। ঢিমেতালে চলা পছন্দ করেন না উনি। আমাদের বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রি এতটা নিয়মানুবর্তিতায় বিশ্বাসী নয়। তাই এখানেই হয় সমস্যা। 'বরুণবাবুর বন্ধু' ছবিতেই অনীকদার সঙ্গে আমার জোট বেঁধে আমার প্রথম কাজ। প্রথম থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম আমার কাজ নিয়ে ওঁকে কোনও কথা বলতে দেব না। মানে নালিশ জানানোর জায়গা রাখব না”।
“আর একটা কথা বলি, অনীকদা কিন্তু সমস্তটা পরিকল্পনা করে, ছকে নিয়ে তবে শুটিং শুরু করেন। ফ্লোরে গিয়ে নয়া চমক পেতে পছন্দ করতে চান না। মানে সারপ্রাইজ পছন্দ নয় আর কী। কিন্তু আমি কিন্তু ওঁকে দিয়েছি সারপ্রাইজ। টুকিটাকি এমন অনেক কিছু জিনিস দিয়ে সেট সাজাতাম যা দেখে অবাক হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি খুব খুশিও হতেন তিনি। তবে ‘অপরাজিত’ ছবিতে সেট ডিজাইন, আর্ট ডিরেকশন...যাই বলুন অনীকদার সঙ্গে আলোচনা করে ভীষণ উপকৃত হয়েছি। ওঁর এসবে যেমন জ্ঞান তেমন উৎসাহ। আমিও সেট সাজানোর সময় ডিটেলিংয়ে খুব নজর দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে ‘অপরাজিত’ ছবির জন্য অনীকদার জাতীয় পুরস্কারটা প্রাপ্য ছিল, খুব আশা করেছিলাম”।
একেবারে শেষে জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত এই শিল্পী বলে ওঠেন, “আমার বাবা সত্যজিৎ রায়ের প্রোডাকশন টিমে কাজ করতেন। খুব কেউকেটা কেউ ছিলেন না। তবে সত্যজিৎ বাবু বাবাকে খুব পছন্দ করতেন বলে শুনেছি। কাজের সময় উনি বাইরের লোকের মধ্যে একমাত্র বাবাকে ঢালাও অনুমতি দিয়ে রেখেছিলেন ওঁর কাজের ঘরে, একথা আমাকে জানিয়েছিলেন খোদ সত্যজিৎ-পুত্র। তাই ছোট থেকেই সত্যজিৎ রায়ের কথা শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। বাবার কাছে ঈশ্বরের মতো ছিলেন সত্যজিৎ। এদিকে আমিও সত্যজিৎ রায়ের জীবনের উপর নির্মিত ছবির উপর তৈরি একটি ছবিতে কাজ করেই জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত হলাম। তাই ভীষণ মনে হচ্ছে কোথাও একটা জীবনের চক্র পূর্ণ হল। জীবন...” কথা পুরোপুরি শেষ করার আগেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন আনন্দ আঢ্য।















