বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সম্প্রতি বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা নিয়ে বিনোদন দুনিয়ায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। নিজের আত্মজীবনী এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে উঠে আসা এই তথ্যগুলোতে অভিনেতার জীবনের এমন কিছু দিক সামনে এসেছে, যা অনেকের কাছেই অজানা ছিল।

জানা যায়, কেরিয়ারের শুরুর দিকে জীবনের এক কঠিন সময়ে তিনি পরভিন মুরাদকে (যিনি মনারা সিকরি নামেও পরিচিত ছিলেন) জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁদের এই সম্পর্কটা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল, কারণ পরভিন বয়সে নাসিরুদ্দিনের চেয়ে প্রায় ১৫ বছরের বড় ছিলেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে করা সেই বিয়ে খুব একটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

বিয়ের পর তাঁদের সংসারে আসে এক কন্যাসন্তান, যার নাম হেবা শাহ। কিন্তু কেরিয়ারের লড়াই এবং নিজের অভিনয় জীবন নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে পরিবারের প্রতি মন দিতে পারেননি অভিনেতা। 

পরবর্তীকালে নিজেই অকপটে স্বীকার করেছেন যে, সেই সময় তিনি প্রথম পক্ষের স্ত্রী এবং নিজের সন্তানের প্রতি অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেছিলেন। একজন বাবা হিসেবে মেয়ের পাশে থাকার কথা থাকলেও, নিজের খামখেয়ালি স্বভাবের কারণে তিনি সেই দায়িত্ব পালন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। এমনকী ছোট্ট বয়সেই হেবা শাহের জীবন থেকে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে রত্না পাঠক শাহকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়ে অভিনেতা থিতু হন এবং নিজের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে অতীতের সেই অনুশোচনা এবং প্রথম পক্ষের পরিবারের প্রতি অবহেলার বিষয়টি আজও বর্ষীয়ান অভিনেতার জীবনের একটি অন্যতম বিতর্কিত ও অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে রয়ে গিয়েছে।