আইনি জাঁতাকলে টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তী । এবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে ওঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠিত হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন মামলার মূল অভিযোগকারী তনয় শাস্ত্রী। ওঁর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই গত ২ জুন, ২০২৬ তারিখে বনগাঁ আদালত মিমির বিরুদ্ধে এই কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ওপার বাংলা তথা টলিপাড়া এবং রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, এই চার্জশিট গঠনের পর এবার আদালতের কাঠগড়ায় মিমি চক্রবর্তীর সশরীরে হাজির হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।
অভিযোগকারী তনয় শাস্ত্রীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই মামলা চললেও মিমি চক্রবর্তী একবারের জন্যও ব্যক্তিগতভাবে আদালতের শুনানিতে হাজির হননি। গত ২ জুনের শুনানিতেও অভিনেত্রী নিজে উপস্থিত না থেকে ওঁর আইনজীবীকে এজলাসে পাঠিয়েছিলেন।
তনয়ের অভিযোগ, বারবার আদালতের কাছে সময় চেয়ে মামলাটিকে অকারণে দীর্ঘায়িত ও ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন মিমি এবং ওঁর আইনি টিম। সেই কারণেই গত মঙ্গলবার তনয় শাস্ত্রীর আইনজীবী আদালতের কাছে মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে চার্জশিট গঠনের জোরালো আবেদন জানান। আদালত সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে চার্জশিট গঠন করার অনুমতি দেয়।
আদালতের এই পদক্ষেপের পর মিমির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তনয় শাস্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন,“উনি অন্যায় করেছেন, ওঁর সেই অন্যায়ের শাস্তি ওনাকে পেতেই হবে। এবার আর কোনো বাহানা চলবে না, আদালতে সশরীরে হাজিরা দিতেই হবে মিমিকে। আমিও এই লড়াইয়ের শেষ দেখে ছাড়ব। উনি ক্ষমতা দেখিয়ে আমাকে অকারণে জেলে পাঠিয়েছিলেন, আজ নিয়তি ওঁকেই আদালতের দরজায় এনে দাঁড় করাল।”
অভিযোগকারী তনয় শাস্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, বনগাঁ আদালতের পক্ষ থেকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে মিমি চক্রবর্তীকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই সমন বা হাজিরার নির্দেশের বিষয়ে বনগাঁ আদালতের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত অফিশিয়ালি কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি বা প্রেস নোট মেলেনি।
অন্যদিকে, ওঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন এবং আদালতে হাজিরার এই চাঞ্চল্যকর নির্দেশ নিয়ে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর পিআর টিম বা ওঁর আইনজীবীদের পক্ষ থেকেও এখনো পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই নীরবতা বিতর্কের আগুনকে আরও কিছুটা উস্কে দিয়েছে।
একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হওয়া এবং টলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর এই আইনি সঙ্কট আগামী দিনে ওঁর কেরিয়ারে কী প্রভাব ফেলে, এবং আগামী ১০ দিনের মধ্যে তিনি সত্যি বনগাঁ আদালতে আত্মসমর্পণ বা হাজিরা দেন কি না— এখন সেদিকেই গভীর নজর রাখছে বাংলার রাজনৈতিক ও বিনোদন মহল।
















