সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় মমতা শঙ্করের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, আরএসএসের একটি ইভেন্টে তিনি মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ দক্ষিণবঙ্গ প্রান্ত সংঘ শিক্ষা বর্গের অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী তথা জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী, পদ্মশ্রী মমতা শঙ্কর উপস্থিত ছিলেন কিনা জানতে, ছবির সত্যতা যাচাই করার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় আজকাল ডট ইনের তরফে। মমতা শঙ্কর জানালেন তাঁকে বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাকা হয়েছিল, তিনি যোগ দিয়েছিলেন এই অনুষ্ঠানে। একই সঙ্গে জানালেন নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার নিয়ে তাঁর মতামত। 

আরএসএসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে মমতা শঙ্কর বলেন, "হ্যাঁ, গিয়েছিলাম। আমার আরএসএসের কাজ, আদর্শ খুব ভাল লাগে। আমার মনে হয় যে ভারতবর্ষের জন্য এটা খুব দরকার। সেই জন্যই আমি গিয়েছিলাম। ওদের ডিসিপ্লিন, নীতি আমার খুব ভাল লাগে বলেই গিয়েছিলাম। এর আগেও গিয়েছি, আবারও গেলাম।" 

সদ্যই রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। তৃণমূল কংগ্রেসকে বিপুল ভোট এবং আসনে পরাজিত করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মমতা শঙ্কর। নতুন সরকারকে নিয়ে তিনি কতটা আশাবাদী জিজ্ঞেস করায় বলেন, "আমি খুবই আশাবাদী। যেভাবে কাজ হচ্ছে, সেটা খুবই ভাল লাগছে। আমি চাইব ওঁরা এভাবেই কাজটা করে যান। দেশের ভাল ভেবে নিঃস্বার্থ ভাবে কাজটা করে যান, এটাই চাইব।" তবে তাঁর আরও সংযোজন, "কয়েকটা কাজ হয়তো আরও একটু সময় দিয়ে করলে ভাল হয়। যেমন, এই দোকানগুলো যে উচ্ছেদ করা হচ্ছে তাঁদের একটু সময় দিয়ে যদি উচ্ছেদ করা হয় তাহলে ভাল হয়। কিন্তু যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেটা খুবই ভাল।" 

অতীতে একাধিকবার মমতা শঙ্কর ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ধরে রাখার বিষয়ে সরব হয়েছেন। কখনও মহিলাদের শাড়ি পরার 'বিকৃত' ধরন নিয়ে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন। কথা বলেছেন মহিলাদের পোশাকের ভিতর থেকে অন্তর্বাস দেখা যাওয়া নিয়েও। বাবা, স্বামী বা পরিবারের কোনও পুরুষ সদস্যকে দিয়ে স্যানিটারি প্যাড আনানো 'লজ্জা'র বলেও অতীতে তিনি দাবি করেন। এদিকে বিজেপি এবং আরএসএসও ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ধরে রাখতে তৎপর। সেই বিষয়ে সচেষ্ট। তাই কি এই সমর্থন? মমতা শঙ্কর বলেন, "একদম। ভীষণ ভাবে এটা বলব। ওরা আমাদের সংস্কৃতিকে ধরে রেখেছে। আমি চাইব ভারতের সেই সংস্কৃতি ঐতিহ্য-ফিরে আসুক। আশা রাখি যে ভারত জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে। এটা আমার স্বপ্ন। প্রত্যেকের মধ্যে বাড়িতে বাড়িতে এই শিক্ষা হোক। বিদেশ কিন্তু আমাদের দেশের দিকে তাকিয়ে আছে। আমাদের সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা, সব কিছুকে ওরা নেওয়ার চেষ্টা করছে। আর আমরা ওখান থেকে যত খারাপ জিনিসগুলোকে নেওয়ার চেষ্টা করছি। খারাপগুলো যেন আমরা বর্জন করি এটাই চাইব।"