১০ বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেলেন অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়া। সাবান প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘পাওয়ার সোপস লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের যে দাবি তিনি করেছিলেন, তা খারিজ করে দিল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে তামান্নার এই আবেদন নাকচ হওয়ায় সেলিব্রিটিদের ‘ইমেজ রাইটস’ বা ছবির স্বত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

 

বিজ্ঞাপনী চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও ছবি ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছিলেন তামান্না ভাটিয়া। কিন্তু দীর্ঘ আইনি টানাপড়েনের পর মাদ্রাজ হাইকোর্ট জানিয়ে দিল, অভিযোগের সপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন অভিনেত্রী। ফলে ‘পাওয়ার সোপস’ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁর ১ কোটি টাকার মানহানির মামলাটি খারিজ হয়ে গেল।

 

কী ছিল এই বিতর্কিত মামলা?

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৮ সালে। তামান্না ভাটিয়া ‘পাওয়ার সোপস লিমিটেড’-এর সঙ্গে এক বছরের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, ২০০৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর ছবি সাবানের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করার অনুমতি ছিল। কিন্তু তামান্নার অভিযোগ ছিল, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ২০১০-১১ সাল নাগাদ সংস্থাটি বেআইনিভাবে তাঁর ছবি প্যাকেজিং এবং অনলাইন শপে ব্যবহার করেছে। এতে তাঁর পেশাদার জীবনে ক্ষতি হয়েছে এবং অন্য ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

মাদ্রাজ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ (বিচারপতি পি ভেলমুরুগান এবং বিচারপতি কে গোবিন্দরাজন তিলকভাদি) আগের রায়কেই বহাল রেখেছে।

 

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:

 

তামান্না যে সমস্ত 'প্রোডাক্ট র্যাইপার' বা রসিদ জমা দিয়েছেন, তা প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট নয়।

 

ওই সমস্ত ছবি বা ই-কমার্স লিস্টিংয়ের সঙ্গে সরাসরি সংস্থার যোগসূত্র প্রমাণিত হয়নি।

 

আদালত সাফ জানিয়েছে, স্রেফ অনুমানের ভিত্তিতে কোনও সেলিব্রিটির ১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

 

বিনোদন জগতে সেলিব্রিটিদের ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বা ছবির বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে এই মামলাটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল। এই রায় প্রমাণ করল যে, কোনো বড় তারকা অভিযোগ করলেই হবে না, আইনি পথে জয়ী হতে গেলে অকাট্য প্রমাণের প্রয়োজন। চুক্তি লঙ্ঘন বা ছবির অপব্যবহারের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এই রায়কে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

 

আদালতের এই রায়ে ১ কোটি টাকা হাতছাড়া হলেও তামান্না আপাতত নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তামিল, তেলুগু এবং হিন্দি—তিন ইন্ডাস্ট্রিতেই তাঁর হাতে একাধিক বড় প্রজেক্ট রয়েছে। আইনি লড়াইয়ে হারলেও এই ঘটনা থেকে বিজ্ঞাপনী চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়ে যে তিনি আরও সচেতন হবেন, তা বলাই বাহুল্য।