কিংবদন্তি কিশোর কুমারকে নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। তাঁর বর্ণময় কর্মজীবন আর ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। অভিনেত্রী, গায়িকা রুমা গুহ ঠাকুরতার সঙ্গে প্রথম বিবাহবিচ্ছেদের পর, তিনি অভিনেত্রী মধুবালাকে বিয়ে করেন। মধুবালার অকাল প্রয়াণের পর, কিশোর কুমার অভিনেত্রী যোগীতা বালিকে বিয়ে করেন, যদিও সেই দাম্পত্য জীবন মাত্র দু'বছর টিকেছিল। ১৯৮০ সালে তিনি অভিনেত্রী লীনা চন্দভারকরকে বিয়ে করেন, তিনিই কিশোর কুমারের মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর পাশে ছিলেন।
বহু বছর পর, কিশোর কুমারের ছেলে, গায়ক অমিত কুমার তাঁর বাবার রোমান্টিক স্বভাব এবং রুমা গুহ ঠাকুরতাকে বিয়ে করার সময় পরিবারের যে বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, সে নিয়ে কথা বলেছিলেন।
সেই সময়ে পরিবারের অমত ছিল স্পষ্ট। একদিকে কিশোর কুমাররা ব্রাহ্মণ পরিবারের, অন্যদিকে রুমা গুহঠাকুরতা ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের। এই সামাজিক পার্থক্যের কারণে কিশোরের দাদা, অভিনেতা অশোক কুমার এই বিয়ের ঘোর বিরোধী ছিলেন। অশোক কুমার কিশোরকে প্রায়ই বলতেন যে, রুমা উচ্চশিক্ষিত এবং ইংরেজি জানা মানুষ, অন্যদিকে কিশোরের শিক্ষাদীক্ষা তেমন নেই। তাই এই বিয়ে কোনওভাবেই সম্ভব নয়।
কিন্তু প্রেমের টানে কিশোর আর রুমা সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে গোপনে বিয়ে সেরে ফেলেন। আর এই গোপন বিয়ের খবর জানাজানি হলে অশোক কুমারের রোষানলে পড়ার ভয়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত ছিলেন স্বয়ং দেব আনন্দ! তিনি কিশোরকে বারবার সতর্ক করেছিলেন, অশোক কুমার জানতে পারলে বড় বিপদ হবে।
শেষ পর্যন্ত ঘটনাটা প্রকাশ্যে আসেই। অশোক কুমার বিয়ের প্রমাণপত্র খুঁজে পেয়ে কিশোরকে জেরা করেন। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কিশোর প্রথমটায় অস্বীকার করলেও, দাদার দেখানো বিয়ের সার্টিফিকেটের সামনে আর মিথ্যে বলতে পারেননি। যদিও পরে দুই পরিবারের তরফেই তাঁদের বিয়েটা মেনে নিয়েছিল।















