বলিউডের ‘কন্ট্রোভার্সি কুইন’ তথা বিজেপি সাংসদ-অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত ওঁর আগামী সিনেমা ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ নিয়ে রূপোলী পর্দায় ফিরতে পুরোপুরি প্রস্তুত। ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার সময় কামা হাসপাতালের নার্স, ওয়ার্ড বয় এবং চিকিৎসাকর্মীদের সেই রুদ্ধশ্বাস ও বীরত্বপূর্ণ সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি হয়েছে এই ছবি। যেখানে একজন স্টাফ নার্সের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন খোদ কঙ্গনা।

 

আগামী ১২ জুন, ২০২৬ প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির মুক্তির আগে, দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের স্বাস্থ্যখাতে নার্সদের অবদান এবং সমাজ যেভাবে তাঁদের দেখে, তা নিয়ে এক বিস্ফোরক ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন কঙ্গনা রানাউত। ওঁর দাবি— আমাদের সমাজে নার্সদের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া হয় না, উল্টে এই পেশাটিকে সবচেয়ে বেশি ‘সেক্সুয়ালাইজড’ বা যৌন আবেদনের দিক থেকে পণ্যায়ন করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা স্পষ্ট জানান, ওঁর এই ছবিটির মূল লক্ষ্যই হল পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এই করোনাযোদ্ধা ও চিকিৎসাকর্মীদের আসল লড়াইকে জনসমক্ষে আনা। কঙ্গনার কথায়, “মানুষের মনে নার্সদের প্রতি যে মানসিকতা বা ভাব রয়েছে, তাতে একটা বড় পরিবর্তন আসা দরকার । আমার মনে হয়, এই সমাজে নার্সিং হল সবচেয়ে বেশি সেক্সুয়ালাইজড বা যৌন আবেদনময়ী হিসেবে তুলে ধরা একটি পেশা। অথচ বাস্তব হল— ওঁদের দিয়ে সাধ্যের বাইরে অতিরিক্ত খাটানো হয় এবং ওঁদের যোগ্য পারিশ্রমিকও দেওয়া হয় না ।”

কঙ্গনা আরও যোগ করেন, একজন রোগীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা থেকে শুরু করে গোটা হাসপাতালকে সচল রাখার পেছনে নার্সরাই দিনরাত এক করে খাটেন। কিন্তু মানুষ ওঁদের সেই ত্যাগের মর্যাদা দেয় না। ওঁর এই ছবির মাধ্যমে যদি মানুষের চিন্তাভাবনা সামান্যও বদলায়, তবেই এই ছবির সার্থকতা।

নার্সদের পোশাক বা ড্রেস কোড নিয়েও নিজের আপত্তির কথা খোলসা করেছেন কঙ্গনা। চিকিৎসকদের মতো নার্সরা কেন নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী পোশাক পরতে পারেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এটা আমার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত, তবে আমার মনে হয় আমাদের দেশে এখনও সেই ব্রিটিশ আমলের নার্সদের ড্রেস কোড ব্যবহার করা হচ্ছে। গরম হোক বা ঠান্ডা, আমাদের দেশের নার্সদের পোশাকে একটা বিদেশি বা ঔপনিবেশিক লুক রয়ে গেছে। ডাক্তারদের মতো নার্সদেরও নিজেদের মতো পোশাক পরার স্বাধীনতা থাকা উচিত, যেখানে একটা সাধারণ কোড থাকবে। তবে এই সিনেমায় আমরা অত্যন্ত সততা ও মর্যাদার সাথে নার্সদের তুলে ধরেছি। শরীরের গড়ন বা সাইজ কোনও বিষয় নয়, আপনার ইউনিফর্মটাই আপনার আসল কর্তব্য।”

 

সিনেমার ট্রেলার লঞ্চের সময় কঙ্গনা এই ছবির নামকরণের পেছনের এক অজানা ইতিহাস শেয়ার করেছিলেন। তিনি জানান, এই ছবির নামটি আসলে এসেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ঘোষণা থেকে। কঙ্গনার কথায়, “২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদিজি এই ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ নামটি কয়েন করেছিলেন। যেমন তিনি বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের ‘দিব্যাঙ্গজন’ নাম দিয়েছেন, বিধবাদের প্রকল্পের নাম বদলে ‘কল্যাণী’ করেছেন, আর হস্তশিল্পীদের ‘বিশ্বকর্মা’ নাম দিয়েছেন; ঠিক তেমনই তিনি দেশের দিনমজুর ও শ্রমিকদের ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। এই শব্দবন্ধটি আমাদের মন ছুঁয়ে যায়, তাই আমরা একেই ছবির নাম হিসেবে বেছে নিই।”

 

মনোজ টাপাডিয়া -র পরিচালনায় এবং জয়ন্তিলাল গডার ‘পেন স্টুডিওস’, ‘মণিকর্ণিকা ফিল্মস’ ও ‘পরমহংস ক্রিয়েশন্স’-এর যৌথ প্রযোজনায় তৈরি এই ছবিতে কঙ্গনা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন গিরিজা ওক, স্মিতা তাম্বে, অমৃতা নামদেও, ইশা দে, প্রিয়া বের্দে এবং সুহিতা থাত্তে। আগামী ১২ জুন, ২০২৬ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়ে ইতিহাস ও সমাজকে কী তাহলে নতুন করে আয়না দেখাতে চলেছে ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’?