বলিউডের বিতর্কিত অধ্যায় থেকে রাজনীতির ময়দান— কঙ্গনা রানাওয়াতের জীবন যেন এক রুদ্ধশ্বাস চিত্রনাট্য। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের অন্যতম অন্ধকার সময়ের স্মৃতিচারণ করলেন এই অভিনেত্রী-সাংসদ। কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকাকালীন কীভাবে তাঁকে ‘ডাইনি’ অপবাদ দেওয়া হয়েছিল এবং শুরু হয়েছিল ‘উইচ হান্টিং’, তা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন কঙ্গনা!

কঙ্গনা রানাওয়াত মানেই ঠোঁটকাটা স্বভাব আর একের পর এক বিতর্ক। তবে এবারের আলোচনা কোনও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে নয়, বরং নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা নিয়ে। ২০০৮-০৯ সালে অভিনেতা অধ্যয়ন সুমনের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ত পরিণতি এবং পরবর্তীকালে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ‘কালো জাদু’ করার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন মান্ডির বিজেপি সাংসদ।


অধ্যয়ন সুমনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০১৫ সালে কঙ্গনার বিরুদ্ধে একাধিক আইনি মামলা ও অভিযোগ সামনে আসে। অধ্যয়ন দাবি করেছিলেন, কঙ্গনা তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করতেন এবং একটি গেস্ট রুমে কালো পর্দা টাঙিয়ে তুকতাক বা তান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপ করতেন। সেই সময়ের কথা মনে করে কঙ্গনা সেই সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমার প্রাক্তন আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। তারপর লোকে বলতে শুরু করল আমি নাকি ডাইনি, আমি রক্ত খাই! কালো ঘরে কালো পর্দা টাঙিয়ে আমি নাকি কালো জাদু করি। আমার বিরুদ্ধে রীতিমতো 'উইচ হান্টিং' শুরু হয়েছিল।”


কঙ্গনা জানান, যখন এই অপবাদগুলো আসছিল, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৬-২৭ বছর। কিন্তু তিনি ভেঙে পড়েননি। তিনি বলেন, “যারা আমাকে আক্রমণ করছিল, তাদের সম্মান রক্ষা করার কোনও দায় আমার ছিল না।” এই কঠিন সময়েও তিনি নিজের কেরিয়ারে ফোকাস করেছিলেন।


এই মানসিক হেনস্থার হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজেকে প্রমাণ করতে ২০১৪ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘কুইন’ কঙ্গনাকে শক্তি জুগিয়েছিল। এই ছবির সাফল্যই বদলে দিয়েছিল তাঁর ইমেজ। কোনও নামজাদা পুরুষ তারকা অথবা তথাকথিত ‘সেক্সি’ রোল ছাড়াই যে একটি ছবি হিট করানো যায়, তা প্রমাণ করেছিলেন তিনি। আজ তিনি চারবারের জাতীয় পুরস্কার জয়ী এবং পদ্মশ্রী প্রাপক।