অভিনেত্রী ও লেখিকা কল্কি কোয়েচলিন বরাবরই সমাজের প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করতে পছন্দ করেন। এবার মাতৃত্ব, নারীর দায়িত্ব এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন তিনি। তাঁর মতে, মায়েদের ওপর যে অদৃশ্য চাপ এবং দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। 

কল্কি তাঁর লেখা বই ‘দ্য এলিফ্যান্ট ইন দ্য উম্ব’ অবলম্বনে তৈরি নাটক ‘বেলি অফ দ্য বিস্ট’-এর মাধ্যমে মাতৃত্বের এমন কিছু দিক তুলে ধরছেন, যেগুলি সাধারণত আলোচনায় আসে না। এই নাটকে তিনি মায়ের শরীর, মানসিক পরিবর্তন, সন্তান লালন-পালনের অদৃশ্য শ্রম এবং নারীর নিজস্ব পরিচয়ের মতো বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।

কল্কির মতে, সমাজে মায়ের ভূমিকা নিয়ে একটি আদর্শ ছবি তৈরি করা হয়েছে—যেখানে মা সবসময় ত্যাগ করবেন, সবকিছু সহ্য করবেন এবং নিজের প্রয়োজনকে পিছনে রাখবেন। কিন্তু বাস্তবে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি জটিল। এর মধ্যে আনন্দ যেমন আছে, তেমনই রয়েছে ক্লান্তি, দ্বিধা এবং নানা কঠিন অনুভূতি। 

অভিনেত্রী বলেন, যদি মায়েরা একসঙ্গে তাঁদের ওপর চাপানো প্রত্যাশার বিরোধিতা করতে শুরু করেন, তাহলে সমাজের প্রচলিত কাঠামোই নড়ে যেতে পারে। কারণ পরিবার ও সমাজের বড় অংশই মায়েদের নিঃশব্দ পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে চলে। 

নিজের মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন কালকি। তাঁর মতে, মা হওয়ার পর তাঁর জীবন এবং চিন্তাভাবনায় গভীর পরিবর্তন এসেছে। মাতৃত্ব তাঁকে এমন অনেক বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে, যেগুলি আগে তিনি অন্যভাবে দেখতেন। 

কল্কি কোয়েচলিনের এই বক্তব্য আসলে শুধু মাতৃত্ব নিয়ে নয়, বরং নারীর স্বাধীনতা, পরিচয় এবং সমাজে তাঁদের অবস্থান নিয়েও একটি বড় আলোচনার সূত্রপাত করেছে। তিনি মনে করেন, মায়েদের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর নতুন নাটকও সেই প্রশ্নই তুলছে। একজন নারী মা হওয়ার পরেও কি নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা এবং নিজস্ব পরিচয় ধরে রাখতে পারেন না? কালকির মতে, মাতৃত্বকে সম্মান করার পাশাপাশি মায়েদের মানুষ হিসেবেও দেখা জরুরি।