যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুক্রবার দুপুরে মিছিল শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে পা মেলান তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও সাংসদরা। দীর্ঘ পথ হেঁটে হাজরায় একটি জনসভা করেন তিনি। সভামঞ্চ থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার আইপ্যাক সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের ফ্ল্যাট এবং সংস্থার সল্টলেকের দফতরে তল্লাশি চালায় ইডি। এই অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল ও গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতিয়ে নিতেই এই তল্লাশি।
সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ জুন মালিয়া। তিনি বললেন, “আমাদের সুপ্রিমো আমাদের যেভাবে নির্দেশ দেবেন, আমরা সেটাই করব। ওঁর পথেই হাঁটব। উনি যতবার রাস্তায় নামবেন, আমরা ওঁর সঙ্গে পা মেলাব। বিজেপি এসআইআর থেকে শুরু একের পর এক অজুহাতে বাংলার মানুষদের হেনস্থা করে যাচ্ছে, অবহেলা করে যাচ্ছে, ধর্ম নিয়ে, জাতি নিয়ে বিভাজন তৈরি করে যাচ্ছে। নানা ফান্ড আটকে রেখে দিয়েছে। আমরা সে সব কিছুর বিরুদ্ধে লড়ছি।”
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, দলের নির্বাচনী রণকৌশলের তথ্য পাচার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাই তাঁর মতে, ইডির এই পদক্ষেপ সরাসরি অপরাধ-এর শামিল। জুনের কথায়, “দিদি যা বলেছেন, ঠিক বলেছেন। উনি চুপচাপ থাকেন। নিজের মতো থাকেন। সেটা ওদের (বিজেপি) ভাল লাগে না। তাঁর দিকে যখন আক্রমণ এসেছে, তার ফলও ওদের ভোগ করতে হবে। দাবাং দিদি গতকাল দাবাং দেখিয়ে দিয়েছেন। এবার তো সবে শুরু। এটা সবে টিজার। দু’মাস পরে ট্রেলার দেখাব আমরা। পিকচার তো জুনে আমরা দেখাব ওদের। আবার আমরা দিদিকে নিয়ে রাস্তায় নামব। উনি সামনে থাকবেন। আর আমরা ওঁর সঙ্গে থাকব। আর বিজেপি-কে চিরতরে বিদায় করব।”
এখানেই থামেননি জুন। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে এসআইএআর-এর থেকে নোটিশ পাঠানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন সাংসদ। ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ওঁর মতো একজন মানুষের মা-বাবাকে টেনে আনা হচ্ছে। কী বেহায়া একটা দল! আমরা কেন, বাংলার মানুষই এদের তাড়াবে। গতকাল দিদি যা করেছেন, একদম ঠিক করেছেন। আইপ্যাক আমাদের স্ট্র্যাটেজিস্ট। আগে তারা কিছু করল না। নির্বাচনের দু’মাস আগে এসে সবকিছু লন্ডভন্ড করল! দিদি কাল মুখ্যমন্ত্রী নয়, তৃণমূলের সুপ্রিমো হিসাবে ওখানে গিয়েছিলেন।”
জুনের সঙ্গে একমত তাঁরই দলের সদস্য, বরানগরে এমএলএ সায়ন্তিকা ব্যানার্জি। তাঁর দাবি, ভোটের মুখে অশান্তি ও বিভ্রান্তি ছড়াতেই ইডি এই অভিযান চালিয়েছে। নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত দলের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, “গতকাল যা হয়েছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। সব রকম নিয়ম মেনেই তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করছে আইপ্যাক। এটা ঘোষিত। আর ঠিক নির্বাচনের আগেই সেখানে ইডি-র অভিযান কেন, সেটা বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না। যে এসআইআর প্রক্রিয়া হতে দু’বছর বা তারও বেশি সময় লেগে যাওয়ার কথা, তা প্রায় দু’মাসে সেরে ফেলা হচ্ছে। কত সাধারণ মানুষ বিপদে পড়ছেন। গতকাল দিদি যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, ওঁকে কুর্নিশ। দিদি যা করেছেন, তারপর ওঁকে দাবাং বলা যেতে পারে। বিজেপি যা চাইছে, সেটা কোনও দিন পাবে না।”
