অনীক দত্তের ছবিতে তিনিই হয়ে উঠেছিলেন 'অপরাজিত' সত্যজিৎ রায়। সেই ছবিতে তাঁদের দু'জনের কাজই দারুণ প্রশংসিত হয়। ২৭ মে অনীক দত্ত না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন। ছাদ থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। অনুমান তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এমনটাই বলা হয়েছে। তবে পুলিশি তদন্তের পর গোটা বিষয়টা আরও স্পষ্ট হবে। অনীক দত্তের প্রয়াণের পর জিতু কামালের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোনে অধরা। হাসপাতালে এলেও সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হননি। অবশেষে এদিন রাতে তিনি মুখ খুললেন।
অনীক দত্তের প্রয়াণের পর এদিন সমাজমাধ্যমে নিজের মনের কথা তুলে ধরলেন জিতু কামাল। অভিনেতা লেখেন, 'মিডিয়ার সমস্ত বন্ধু, দিদি, দাদা, ভাই, প্রত্যেকের কাছে আমি করজোরে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। যে ঘটনা ঘটে গেছে তারপরে আমার কিছু বলার থাকতে পারে না এমনটা বলবো না। আমার সত্যিই কিছু বলার নেই,বিশ্বাস করুন। কী বলবো বলুন? আমি অনীক দার কাছে সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। ওনার পরিবারে পাশে থাকুন আর কিছু বলার নেই। জানি আর বুঝিও বাইট/কপি নেওয়াটা আপনাদেরও কাজ। আমাকে ক্ষমা করবেন। আপনাদেরও মন ভেঙেছে, আপনারাও বেদনাহত।" (পোস্টদাতার বানান অপরিবর্তিত রাখা হল)
এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, এদিন এসএসকেএম হাসপাতালে অনীক দত্তের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। তারপর সেখানে ফুলের স্তবক দিয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উপস্থিত ছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ, শতরূপ ঘোষ, উষসী চক্রবর্তী, বিদীপ্তা চক্রবর্তী, প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, সূত্রের খবর, অনীক দত্তের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁর পরিবারের হাতে দেহ হস্তান্তর করে দেওয়া হয়েছে। কী রয়েছে সেই রিপোর্টে? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসকদের অনুমান এটি আত্মহত্যা। ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চোট রয়েছে। বিশেষ করে মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। রক্তপাতের কারণেই মৃত্যু হয়েছে বলেই জানানো হয়েছে রিপোর্টে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয় অনীক দত্তের। তবে, গোটা বিষয়টি আরও সঠিকভাবে বলা যাবে পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার পর। যেখান থেকে পরিচালক ঝাঁপ দিয়েছেন সেটা কতটা উঁচু, কত উঁচু পাঁচিল ছিল এগুলো সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উপর থেকে পড়ার সময় অনীক দত্তর দেহ যে কাঁঠাল গাছে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়েছে সেই জায়গাটা, মূলত, ছাদ এবং কাঁঠাল গাছের মধ্যে দূরত্ব কত ছিল সবটাই সরেজমিনে দেখা হবে।
এছাড়া পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে। এই নোট দেখেই আপাতদৃষ্টিতে মনে করা হচ্ছে অনীক দত্ত আত্মহত্যা করেছেন। তবে এখনই এই নোটের উপরে ভিত্তি করে স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ এই সুইসাইড নোটটি পুলিশের তরফে ফরেন্সিকে পাঠানো হবে হাতের লেখা মিলিয়ে দেখার জন্য। যাচাই করা হবে নোটটি অনীক দত্তরই লেখা, নাকি অন্য কেউ লিখেছেন।
এদিন অনীক দত্তর অস্বাভাবিক মৃত্যু প্রসঙ্গে ডেপুটি কমিশনার সৈকত ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানান তাঁরা একটি সুইসাইড নোট পেয়েছেন। কী আছে তাতে? এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তাঁর জবাব, "অস্বাভাবিক মৃত্যুর কেস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্ত চলছে। আমরা ময়নাতদন্ত করাব। টিম এসে কিছু স্যাম্পেল সংগ্রহ করেছে। ফরেনসিক করানো হবে এই জায়গার। একটা সুইসাইড নোট আমরা পেয়েছি, কিন্তু ওর ভিতরে কী আছে সেটা এখনই বলা যাবে না। আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি।"















