গুলজার ও 'ট্র্যাজেডি কুইন' মীনা কুমারীর সম্পর্ক নিয়ে এক সময় বহু চর্চা হয়েছে। বহু সাক্ষাৎকারে গুলজার তাঁদের সেই বিশেষ সমীকরণ ও বন্ধুত্বের এক অজানা অধ্যায় সামনে এনেছেন। সম্প্রতি, সমাজমাধ্যমের চর্চায় ফের উঠে এসেছে এই দুটি নাম।

শোনা যায়, মীনা কুমারী যখন গুরুতর অসুস্থ, তখন রমজান মাসে নিজের স্বাস্থ্যের কারণে তিনি রোজা রাখতে পারছিলেন না। নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন থাকায় রোজা রাখা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। অথচ মীনার রোজা রাখার জেদ দেখে গুলজার একটি অভিনব উপায় বের করেন। তিনি মীনা কুমারীকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, তিনি নিজে তাঁর পরিবর্তে রোজা রাখবেন, যাতে মীনা নিশ্চিন্তে ওষুধ খেতে পারেন। শুধু সেই বছরই নয়, মীনার প্রয়াণের পরও বহু বছর গুলজার নিয়ম করে রোজা রেখেছিলেন।

 ১৯৭১ সালে গুলজারের পরিচালনায় প্রথম ছবি ‘মেরে আপনে’-তে কাজ করেছিলেন মীনা কুমারী। সেই সময় লিভারের সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে মীনা কুমারীর শরীর ভেঙে পড়লেও অভিনয়ের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ছিল অতুলনীয়। গুলজার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মীনার উপর তাঁর কোনও অনুরাগ বা ক্রাশ ছিল না, বরং তাঁদের সম্পর্কটা ছিল শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের।

১৯৭২ সালে মীনা কুমারীর মৃত্যুর পর তাঁর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ— তাঁর লেখা কবিতা ও ব্যক্তিগত ডায়েরিগুলো গুলজারের কাছেই রেখে যান। গুলজার আজও সেই স্মৃতিগুলো সযত্নে আগলে রেখেছেন। 

প্রসঙ্গত, মীনা কুমারীর সঙ্গে প্রয়াত অভিনেতা ধর্মেন্দ্ররও নাকি প্রেম ছিল! বলিপাড়ায় কান পাতলে এই গুঞ্জনও শোনা যায়। তবে গুলজারের সঙ্গে মীনা কুমারীর সমীকরণ যেন সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে।