দীর্ঘ ২০ বছর পর কলকাতায় ফিরলেন তসলিমা নাসরিন। লেখিকার প্রত্যাবর্তনে খুশি তাঁর অগণিত ভক্তরা। ১ আগস্ট রবীন্দ্র সদনে একটি কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেন। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ বিভিন্ন নেতা, মন্ত্রীরা। এই অনুষ্ঠানের পরদিনই রবিবার, ২ আগস্ট সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন তসলিমা। সেখানে কী বললেন তিনি বর্তমান সরকারকে নিয়ে?
এদিন তসলিমা নাসরিন বর্তমান বিজেপি সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন সাংবাদিক বৈঠকে। বলেন, "তিন সরকারের পার্থক্য তো আছেই। এক সরকার আমায় বের করে দিয়েছিল, আর এক সরকার আসতে দেয়নি। তৃতীয় সরকার আমাকে আসতে দিয়েছে। এখন সেই পার্থক্য না দেখে, এই যে আমি আসতে পারলাম, আমার মনে হয় সেটাকেই উদযাপন করা উচিত। আমি খুবই আনন্দিত যে আমি আসতে পেরেছি। আমি বিশ্বাস করতে চাই, এই সরকার মত প্রকাশের অধিকারে, বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।"
তিনি এদিন আরও বলেন, "যারা মঞ্চে ছিলেন কাল তারা প্রথম থেকেই আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। এই সরকার নিরাপত্তা দিয়েছে আমি এসেছি।"
প্রসঙ্গত, বাম আমলে কলকাতা থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন তসলিমা। ২০০৭ সালে কলকাতা শহর ছাড়তে হয় তসলিমাকে। তারপর কেটেছে প্রায় দু'দশক। পালাবদলের পর ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার এল যখন, সেই থেকে ২০২৬ এর গোড়ার দিক পর্যন্ত কলকাতায় লেখিকার আর ফেরা হয়নি। অবশেষে বিজেপি সরকার আসার পর সেই ছবিতে বদল এল।
১ আগস্টের অনুষ্ঠানে মঞ্চে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি তসলিমার হাতে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তৃতায় তিনি বলেন, "যেখানে সংবিধানের প্রতিটা স্তম্ভ সুরক্ষিত, সেই পশ্চিমবঙ্গে সবার আসার সুযোগ রয়েছে। সবার বাকস্বাধীনতা রয়েছে। আজ অত্যন্ত প্রিয় সম্মানীয়া লেখিকা তসলিমা নাসরিন এসেছেন, কর্মসূচি করছেন। এতে প্রমাণিত হয়েছে, নতুন সরকারের হাতে এই বাংলার মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত। এখানে কোনওভাবে ধমক-চমক টিকবে না, অতীত হয়ে গিয়েছে।" শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, "আমি এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলাম না। তসলিমা নাসরিন আসছেন শুনে এলাম। আমি শুধু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নই, তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের দায়িত্বেও আছি। আমি ওঁকে স্বাগত জানালাম, বন্দেমাতরমের শতবর্ষে। পশ্চিমবঙ্গে আপনি স্বাগত, আপনার গুণগ্রাহী প্রচুর। পশ্চিমবঙ্গের যে ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, সেটা আপনি উপলব্ধি করতে পেরেছেন। শুধু একবার নয়, আপনি বারবার আসবেন। এই পশ্চিমবঙ্গে আপনার সুরক্ষার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।"
'সেকুলার মিশন' নামক একটি সংগঠন তসলিমা নাসরিনকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানায়, রাজ্য সরকার তারপর তাঁকে নিরাপত্তা দিয়ে এই রাজ্যে নিয়ে আসেন।
















