অসমবয়সী বন্ধুত্বের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ বোধহয় ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং শ্রীময়ী চট্টরাজ। টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় প্রিয় বন্ধু জুটি তাঁরা। এই বন্ধুত্ব দিবসে 'ঋতুদি'কে নিয়ে মনের আগল খুলে আজকাল ডট ইনের সঙ্গে কথা বললেন শ্রীময়ী।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর সঙ্গে শ্রীময়ী চট্টরাজের আলাপ মাত্র বছর দু'য়েকের। কিন্তু হলে কী হবে, সেই সম্পর্কের গভীরতা দারুণ। কীভাবে তাঁদের আলাপ হয়? শ্রীময়ী এদিন বলেন, "'রক্তবীজ ২' -এর সাকসেস পার্টিতে গিয়ে আলাপ ওঁর সঙ্গে, ২০২৪ সালে। কাঞ্চনই আলাপ করিয়ে দেয় ঋতুদির সঙ্গে। সেখান থেকে এখন মনে হয় না, মাত্র গত দুই, তিন বছর আগে আমাদের আলাপ হয়েছিল। মনে হয় যেন কত বছরের পুরনো সম্পর্ক। হিসেব মতো ঋতুদি কাঞ্চনের বন্ধু, ওর সঙ্গে অনেক ছবি করেছে। আমি তো ওর থেকে অনেক ছোট। ঋতুদি আমার দিদির মতো, কিন্তু আমার মনে হয় উনি আমার দিদির থেকেও অনেক বেশি বন্ধু। প্রিয় বন্ধু।"
তিনি এদিন তাঁর প্রিয় বন্ধু সম্পর্কে বলেন, "কথায় বলে না, ইন্ডাস্ট্রিতে বন্ধু হয় না। বন্ধু কিন্তু সত্যিই হয়। এমন কোনও কথা নেই আমার, যেটা উনি জানেন না। এরকম হয়তো হয়েছে, কোনও কোনও সময় কাঞ্চনকে জানালাম না, বললাম না, বা পরে বললাম। কিন্তু ঋতুদিকে নির্দ্বিধায় বলতে পারি। আর আমি জানি ওঁকে কিছু বলার অর্থ, সেটা সমুদ্রের নিচে চাপা পড়ে যাওয়া। আর কেউ জানবে না। ঠিক যেমন আমার প্রেগন্যান্সির খবর।"
কৃষিভ অর্থাৎ কাঞ্চন এবং শ্রীময়ীর দ্বিতীয় সন্তান, তাঁদের ছেলের জন্মের বিষয় অভিনেত্রী বলেন, "আমি গর্ভবতী জানতে পেরেই প্রথমে ঋতুদিকে ফোন করেছিলাম। সিঙ্গাপুর থেকে এসেই তো আমি খবরটা পাই। কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না কী করব। ওই হয় না, একটা বন্ধুর সঙ্গে কথা বলাটা খুব জরুরি মনে হয়। কাঞ্চন তো আছেই। কাঞ্চন, বাবা, মা সবাই আছেন, কিন্তু একটা বাচ্চা ছোট, সবটা মিলিয়েই আর কী... কী করব বুঝতে পারছিলাম না। একটা বাচ্চাকে খালি নিয়ে আসা নয় তো, তাকে মানুষ করা, তার একটা ভবিষ্যৎ আছে, একটা বড় দায়িত্ব। কী করা উচিত ভাবছিলাম। সেই ভাবনা থেকেই ঋতুদিকে ফোন করি, উনি অভিভাবকের মতো আমায় গাইড করেন। উনি আমায় বলেছিলেন, 'মানুষ মাথা ঠুকে সন্তান পায় না। আমার সময় সন্তান হওয়াটা এত ফ্যাশনেবল ছিল না। তখন আমি পুরোদমে কমার্শিয়াল ছবির হিরোইন। বাচ্চা হয়ে যাওয়া মানে একজন হিরোইনের কাছে একটা কঠিন ব্যাপার ছিল তখন। আমার ১০ বছর লেগেছিল সেকেন্ড বেবি প্ল্যান করতে। তোকে ঈশ্বর দিয়েছেন সেটা।' এরপরই এমন একটা দিন যায়নি যেদিন উনি ফোন করে খোঁজ নেননি। আত্মীয়রা হয়তো এত খোঁজ নেননি, যতটা উনি নিয়েছিলেন। আমেরিকা গিয়েও আমায় ফোন করেছিলেন, 'কেমন আছিস, কী অবস্থা শরীরের?' জানতে চেয়েছেন।"
তাঁদের বোঝাপড়া, সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে শ্রীময়ী বলেন, "ঋতুদির তো আমার থেকে অনেক বেশি অভিজ্ঞতা। আমি ওঁর থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ঋতুদি চোখের সামনে অনেক বিশ্বাসঘাতকতা দেখেছেন। কিন্তু উনি প্রতিবাদ নেওয়ায় বিশ্বাস করেন না। ওঁর মতে, 'ওর কর্ম ও করছে, আমি আমার কর্তব্য করেছি।' ঋতুদির সঙ্গে মিশে আমি দেখেছি, বিশ্বাস বন্ধুত্বের একটা বড় জায়গা। সেটা যদি একবার টালমাটাল হয়ে যায়, তাহলে গোটা বিষয়টা একটা তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়ে থেকে যাবে। আমি খুব ভাগ্যবতী যে আমি ঋতুদির মতো এমন একজন দিদি আর বন্ধু পেয়েছি। আমার ইন্ডাস্ট্রিতে বন্ধু খুব কম। কাঞ্চন আর ঋতুদি ছাড়া বাকিরা সুপরিচিত, বাকিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক, কিন্তু বন্ধু নন। উনি সবসময় সুখে, দুঃখে, বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। আর এখন তো কেউ কারও ভাল দেখতে পারে না। বন্ধুত্বের নামে ছুরি বসায়। দুর্বলতাকে হাতিয়ার বানিয়ে নেয়। সেখানে উনি ব্যতিক্রম।"
















