পরিচালক ইমতিয়াজ আলি-র আগামী ছবি ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’-র স্টারকাস্ট ইতিমধ্যেই ছবিপ্রেমীদের মধ্যে দারুণ উত্তেজনা তৈরি করেছে। ছবিতে যেমন রয়েছেন বেদাং রায়না এবং শর্বরী-র মতো তরুণ প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা, তেমনই আছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ এবং বলিউডের অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই ছবির শুটিং সেটে নাসিরুদ্দিন শাহকে পরিচালনা করার এক রোমাঞ্চকর এবং মজাদার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন ইমতিয়াজ। পরিচালক রসিকতা করে জানালেন, বারবার শট পছন্দ না হওয়া এবং রিটেক চাওয়ার জন্য নাসিরুদ্দিন শাহ সেদিন ওঁর গালে একটা থাপ্পড় কষিয়ে দিলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না!
সম্প্রতি দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ইমতিয়াজ আলি জানান, ছবির ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যটির শুটিংয়ের সময় নাসিরুদ্দিন শাহ নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে একটি অনবদ্য শট দিয়েছিলেন। অভিনয় শেষ হতেই বর্ষীয়ান অভিনেতা একেবারে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু ইমতিয়াজের মনে হয়েছিল আরও একটা নিখুঁত শটের সুযোগ রয়েছে। সেই মুহূর্তের স্মৃতি হাতড়ে ইমতিয়াজ বলেন, “নাসিরুদ্দিনজি এমন একজন অভিনেতা, যাঁকে আপনি কিছু বললে তিনি মুহূর্তের মধ্যে অভিনয়ে সেই পরিবর্তনটা এনে দেখাতে পারেন। ক্লাইম্যাক্সের একটা দারুণ শট দেওয়ার পর উনি যখন পুরোপুরি ক্লান্ত, আমি তখন দিলজিৎকে ফিসফিস করে বললাম যে আমি ওঁর থেকে আরও একটা রিটেক নিতে চাই। দিলজিৎ তো শুনেই আঁতকে উঠে বলল— ‘ওরে বাবা! আমি এখুনি ঘরের বাইরে চলে যাচ্ছি, তারপর আপনিই ওঁর কাছে রিটেক চেয়ে নিন, অল দ্য বেস্ট স্যার!’”
এরপর ইমতিয়াজ যখন নাসিরুদ্দিন শাহর কাছে গিয়ে আরেকটি শটের অনুরোধ করেন, তখন রেগে গিয়ে অভিনেতা বলে ওঠেন, “কী বোকামি চলছে এসব ! আমি কীভাবে আর একটা টেক দেব? তুমি ঠিক কী চাও বলো তো?” তবে ইমতিয়াজ যখন ওঁর ধারণা বুঝিয়ে বলেন, তখন বাচ্চাদের মতোই শান্ত হয়ে আবার শট দিতে রাজি হয়ে যান নাসির। ইমতিয়াজ জানান, দৃশ্যটি অত্যন্ত আবেগঘন ও যন্ত্রণাদায়ক ছিল এবং নাসিরজি ফের পুরো আবেগের তীব্রতা দিয়ে কাজটা করছিলেন, যা মোটেও সহজ ছিল না। তবে মজার বিষয় হল, পরে এডিটিং টেবিল-এ বসে ইমতিয়াজ ওঁর দেওয়া প্রথম টেকটাই ছবিতে ব্যবহার করেছিলেন!















