জানা গিয়েছিল আরজি কর কাণ্ড নিয়ে ছবি করবেন তিনি, 'তিলোত্তমা'র ভূমিকায় দেখা যাবে রাজনন্দিনী পালকে। পাশাপাশি আরও একটি ছবি করার কথা ছিল তাঁর। তবে এদিন সাংবাদিক বৈঠকে পরিচালক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন তিনি এখন 'তিলোত্তমা' করছেন না, একসঙ্গে দু'টো ছবিতে মন দিচ্ছেন না তিনি। বরং আপাতত তিনি 'হীরক রানির দেশে' ছবিটি আনছেন। এদিন অভিনেতা, অভিনেত্রীদের সঙ্গে আলাপ করালেন।
উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত 'হীরক রানির দেশে' ছবিটিতে কোন গল্প ফুটে উঠবে সেটা স্পষ্ট করলেন না পরিচালক বা অভিনেতারা কেউই। এমনকী নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তি বা সময়কে তুলে ধরা হবে কিনা সেটাও খোলসা করলেন না। বরং সাসপেন্স জিইয়ে রাখলেন।
'হীরক রানির দেশে' ছবিটিতে মুখ্য ভূমিকায় থাকবেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জয়াপ্রদা, রাজনন্দিনী পাল, অমৃতা চট্টোপাধ্যায়, বাদশা মৈত্র, ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়, প্রমুখ। বহু বছর পর জয়াপ্রদা আবারও কোনও বাংলা ছবিতে কাজ করতে চলেছেন। সেই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ''এখনই এই ছবির বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। ছবির কাজ শুরু হলে তারপরই বলতে পারব। পরিচালকের নির্দেশ এটা। কিন্তু আমি যখন কোনও প্রজেক্ট অ্যাকসেপ্ট করি, তখন তাতে কিছু বিশেষত্ব থাকেই। আমার চরিত্র খুব গুরুত্বপূর্ণ, এবং ক্ষমতাশালী। সমাজ থেকেই চরিত্র নিয়ে ছবিটি বানানো হচ্ছে।"
অমৃতা চট্টোপাধ্যায় তাঁর এই আসন্ন কাজ প্রসঙ্গে বলেন, "গল্পটা কিছু মাস আগে তৈরি হয়েছে। এখন শুটে যাচ্ছে। উজ্জ্বল দা আগেও এমন একাধিক বিষয়েও ছবি করেছেন যেগুলো খুব দরকারি এবং রেলিভেন্ট, বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করেই সেই ছবিগুলো তিনি বানিয়েছেন। প্রতিটি ছবিই খুব সমাদৃত হয়েছে বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে এবং দর্শকদের কাছে। গল্পের উপর নিষেধাজ্ঞা আছে তাই বলতে পারব না। তবে এটি একটা জরুরি বিষয় নিয়ে ছবি। জাতীয় স্তরে সমাদৃত এমন একজন পরিচালক এবং এই কাস্টে সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়ে আমি খুবই কৃতজ্ঞ।'' প্রায় একই সুর শোনা যায় রাজনন্দিনী পালের গলাতেও। তিনি বলেন, "আমাদের সঙ্গে আজ প্রেস কনফারেন্সে জয়াপ্রদা ম্যাম রয়েছেন, তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ, স্ক্রিন শেয়ার করার সুযোগ আমার কাছে খুবই বড় পাওনা। উজ্জ্বল স্যার যে আমার কাজ দেখেছেন, ওঁর ছবির একটি চরিত্র হিসেবে আমায় পছন্দ করেছেন তার জন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ। এই ছবির হাত ধরে জাতীয় স্তরে একটা কাজ করা হবে আমার।''
বাদশা মৈত্র, ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ও রয়েছেন ছবিটিতে। বাদশা ছবির বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, "এটা একজন ব্যক্তিকে নিয়ে নয়, একটা সিস্টেমকে নিয়ে হতে পারে। স্যাটায়ার যখন সমাজের উপর নিশ্চয় একটা ক্রিটিক্যাল অ্যাঙ্গেল রয়েছে। সেটা কোনও একজন নির্দিষ্ট মানুষ বা সময়কে নিয়ে না হয়ে, একটা সিস্টেমের উপর হতে পারে।" বাদশার মতো ভাস্বরও তাঁর চরিত্রের নাম বা বিষয় নিয়ে কোনও কথা বলতে রাজি হন না। তবে তিনি জানান তাঁর চরিত্রটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভাস্বরের কথায়, ''আমি এই চরিত্রটা করতে খুব মজা পাব। আমার কাঁধে একটা উজ্জ্বল দা একটা বড় দায়িত্ব তুলে দিয়েছে এটুকুই বলতে পারি।"
কেবল কলাকুশলীরা নন, পরিচালক নিজেও ছবিটি নিয়ে বিশেষ মুখ খুলতে রাজি হন না। তবে এটুকু জানান অক্টোবর মাসে মুক্তি পাবে 'হীরক রানির দেশে'।















