বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় ফ্যাশন ডিজাইনার তিনি। তাঁর ভাবনা, কাজ বারংবার নজর কেড়েছে মানুষের। এবার তাঁর নিজেরই শারীরিক বদল অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। কথা হচ্ছে ফ্যাশন ডিজাইনার অভিষেক রায়ের। 

যাঁরা ওজন কমাতে চান, কী করবেন কী করবেন না বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁদের কাছে অভিষেক রায় যেন উদাহরণ হয়ে উঠলেন। ৩ মাসে তিনি ২১ কেজি ওজন কমিয়েছেন। কীভাবে? কী কী মেনে চলেছেন সবটাই আজকাল ডট ইনকে জানালেন। 

ওজন কমানোর জার্নির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিষেক রায় বলেন, "৩ মাস আগে আমি আমার ওজন কমানোর জার্নি শুরু করেছি। বেশ কিছু সমস্যা হচ্ছিল তাই অবশেষে স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল দিই। এই বিষয়ে আমায় মোটিভেট করেছেন আমার ট্রেনার অতনু পাল।" কী কী মেনে চলেছেন বা চলছেন তিনি? এই বিষয়ে অভিষেক রায়ের জবাব, "৮০ শতাংশ ডায়েট, বাকিটা ওয়ার্ক আউট। জিম, সুইমিং করছি, সকালবেলা করে হাঁটছি। এছাড়া যোগব্যায়াম করছি। কখন, কতটা আর কী খাচ্ছি সেটা খুব জরুরি, বিশেষ করে পরিমাপটা। এবং তার সঙ্গে সঠিক গাইডেন্সে ওয়ার্ক আউট করছি, এটাও খুবই জরুরি। আমরা অনেকেই ভাবি না খেয়ে থাকলেই বুঝি রোগা হয়ে যাব, কিন্তু তাতে যেমন ফ্যাট লস হয়, মাসল লসও হয়। তাই সঠিক সময়, সঠিক জিনিস খাওয়া এবং গোটাটা মেনটেন করে চলাটা খুব জরুরি।" 

ওজন কমাতে অভিষেক রায়ের ডায়েট প্ল্যান কী? "আমার ট্রেনার বলেছেন কোনও ডায়েট ৭ থেকে ১০ দিনের বেশি টানা কন্টিনিউ না করতে। তাহলে শরীর সেটার ইমিউনিটি তৈরি করে ফেলে। প্রথম ৭-১০ দিন ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করেছিলাম। ১৬ ঘণ্টা উপোস থেকে খেলাম। তারপর সেটা বদলে কিটো ডায়েট করলাম, যেখানে কেবল প্রোটিন খেলাম, কার্বস পুরো বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তারপর আবার এমন ডায়েট করলাম যেখানে তিনবেলা আমি অল্প অল্প খাবার খেলাম যেখানে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফাইবার সব ছিল। এছাড়া যেটা এখন খুব মেনে চলছি, সন্ধ্যা ৭ টার পর আমি আর কিছু খাই না। রাতের খাওয়া আর ঘুমাতে যাওয়ার মাঝে গ্যাপ রাখলে মেটাবলিজমটা ভাল হয়। মিষ্টি, মিষ্টি জাতীয় ফল একদম বন্ধ। মাঝেমধ্যে অল্প অল্প খাই, যেমন আম, ইত্যাদি। কিন্তু সবটাই খুব ব্যালেন্স করে। আর সময়ে খাবার খাওয়াটা খুব জরুরি", জানালেন তিনি। 

কত কেজি ওজন ঝরিয়েছেন সেটা জানিয়ে অভিষেক বলেন, "২১ কেজি ওজন কমেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে আমার ১৫৬ কেজি ওজন ছিল, সেখান থেকে ১৩৫ কেজি ওজনে নামাতে পেরেছি। আশা করছি আরও পারব। এই ডেডিকেশনটা ধরে রাখতে হবে। এমন কিছু করব না যাতে ক্লান্ত হয়ে যাই। তাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে মানুষ। আমি নিজেই আগে চেষ্টা করেছি, কিন্তু হয়নি। অত্যধিক ওয়ার্ক আউট করলে আগ্রহ হারিয়ে যায়।" 

ওজন কমাতে কি কোনও ওষুধ বা ইনজেকশন নিয়েছেন? এই জল্পনা নস্যাৎ করে তিনি বলেন, "অনেকেই জিজ্ঞেস করছেন আমি ওজেম্পিক জাতীয় কিছু নিয়েছি কিনা। সেটা একদমই নয়। এই ইনজেকশন, ইত্যাদি তাঁদের জন্যই যাঁরা কোনও রকম শারীরিক কসরত করতে পারেন না। কিন্তু যাঁরা ওয়ার্ক আউট করতে পারেন, তাঁদের কখনই এটা করা উচিত না। এর সাইড এফেক্ট আছে। আর হেলথি ভাবে ওজন কমালে সেটা অনেকদিন থাকে। আর ওষুধের উপর ভরসা করলে, ওষুধ বন্ধ করলেই ফের ওজন বাড়তে থাকে।"