বলিউডের বিখ্যাত চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক ইমতিয়াজ আলি ওঁর ছবিতে সবসময়ই প্রেম, রোমাঞ্চ এবং এক চিরন্তন জার্নির গল্প দেখান। কিন্তু ওঁর নিজের বাস্তব জীবনও যে কোনও থ্রিলার সিনেমার চেয়ে কম নয়, তার এক বড় প্রমাণ মিলল সম্প্রতি। এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক ওঁর কলেজের দিনগুলোর এক হাড়হিম করা ঘটনার স্মৃতিচারণ করেছেন— যেখানে স্রেফ একটি রাজনৈতিক পোস্টারকে কেন্দ্র করে মাঝরাতে হোস্টেল থেকে ওঁকে অপহরণ  করেছিল দিল্লির এক কুখ্যাত গ্যাং!

দিল্লির বিখ্যাত ‘হিন্দু কলেজ’ -এর ১৯৯৩ সালের স্নাতক ইমতিয়াজ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ওঁর ছাত্ররাজনীতির সেই অন্ধকার রাতের অভিজ্ঞতা এবং কীভাবে একটি অপ্রত্যাশিত টুইস্ট ওঁর প্রাণ বাঁচিয়েছিল, তা খোলামেলাভাবে শেয়ার করেছেন। ইমতিয়াজ জানান, নয়ের দশকে দিল্লির কলেজগুলোতে ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই (NSUI) এবং এবিভিপি (ABVP)-র মধ্যে তুমুল রেষারেষি চলত। সেই সময়কার ঘটনা মনে করে পরিচালক বলেন, “আমার হোস্টেলের সদর দেওয়ালে এসে কিছু ছেলে রাজনৈতিক পোস্টার লাগাচ্ছিল। আমি ওদের ভদ্রভাবে বলি— ‘ভাই, হোস্টেলের একদম সামনের দেওয়ালে পোস্টার না মেরে তোমরা পাশের দেওয়ালে লাগাও।’ কিন্তু ওরা ইচ্ছে করেই জেদ দেখিয়ে সামনের দেওয়ালেই ওটা সেঁটে দেয়। তখন আমি ওদের সামনেই পোস্টারটি ওখান থেকে অক্ষত অবস্থায় তুলে পাশের দেওয়ালে লাগিয়ে দিই। সেই দেখে ওরা রেগেমেগে তখন ওখান থেকে চলে যায়।”

 

কিন্তু আসল গল্প শুরু হয় এর কয়েক দিন পর। একদিন রাত ঠিক ২টোর সময় ইমতিয়াজের হোস্টেলের এক বাসিন্দা ওঁর ঘরে এসে হন্তদন্ত হয়ে ওঁকে পালিয়ে যেতে বলে। কিন্তু পালানোর আগেই একটি সাইকেল রিকশা চেপে করে আসা একদল গুন্ডা ইমতিয়াজের ঘরে চড়াও হয় এবং জোর করে জাপটে ধরে ওঁকে তুলে নিয়ে যায়! 

গুন্ডারা ইমতিয়াজের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করতে করতেই তাঁকে ওই সাইকেল রিকশায় বসিয়ে দিল্লির এক সরকারি আবাসনের মতো দেখতে একটি জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে যাঁর সামনে ইমতিয়াজকে হাজির করানো হয়েছিল, সে ব্যক্তি আবার একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত এক গ্যাং লিডার ছিল! 

গ্যাং লিডার ওঁকে জেরা করা শুরু করলে ইমতিয়াজ শান্ত মাথায় বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, তিনি কোনও দলের পোস্টার ছেঁড়েননি বা নষ্ট করেননি। হোস্টেল বিল্ডিংয়ের সামনের লুক যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য তিনি স্রেফ ওটা তুলে পাশের দেওয়ালে শিফট করে দিয়েছিলেন মাত্র।ইমতিয়াজের বয়ান শোনার পর ঘটনার এক নাটকীয় মোড় ঘোরে, যা অবিকল কোনও বলিউড সিনেমার কমেডি দৃশ্যেরমতো। 

ইমতিয়াজের কথায়, “আমার কথা শোনার পর গ্যাং লিডার ওঁর ওই গুন্ডা অনুগামীদের দিকে ঘুরে জিজ্ঞেস করে— ‘ও কি সত্যিই পোস্টারটা ছিঁড়েছে?’ তখন ওই গুন্ডাটি আমতা আমতা করে বলে— ‘আরে বস, ওটা তো একই ব্যাপার! ও ছিঁড়ে ফেলুক আর ওখান থেকে সরিয়ে দিক— দু'টো তো একই জিনিস।’ ব্যস, এই কথা শুনেই গ্যাং লিডার মারাত্মক রেগে যায় এবং চেঁচিয়ে বলে— ‘তুই আমাকে বলেছিলি ও পোস্টার ছিঁড়ে অপমান করেছে, আর এখন বলছিস ও শুধু ওটা সরিয়েছিল?’ মিথ্যা কথা বলার অপরাধে গ্যাং লিডার নিজের দলের ওই গুন্ডাটাকে ঠাস ঠাস করে দু’টো চড় কষিয়ে দেয়! এরপর ওদের নিজেদের মধ্যে মারপিট শুরু হতেই আমি ওখান থেকে অক্ষত অবস্থায় সুযোগ বুঝে চম্পট দিই।”

কলেজ জীবনের এই রোমহর্ষক স্মৃতির মাঝেই এই ‘রকস্টার’ পরিচালক ওঁর আগামী সিনেমা ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’  নিয়ে বক্স অফিসে ঝড় তুলতে পুরোপুরি প্রস্তুত। আগামী ১২ জুন, ২০২৬ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে ওঁর এই নতুন ছবি।দেশভাগের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই পিরিয়ড ও মডার্ন রোমান্টিক ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন একঝাঁক প্রতিভাবান তারকা -দিলজিৎ দোসাঞ্জ, বেদং রায়না, শর্বরী ওয়াঘ এবং নাসিরুদ্দিন শাহ।  

অতীত ও বর্তমানের টাইমলাইন মিলিয়ে তৈরি এই গভীর প্রেমের ছবি নিয়ে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই উন্মাদনা তুঙ্গে। তবে ছবি মুক্তির আগে পরিচালকের নিজের জীবনের এই ‘রিয়েল লাইফ কিডন্যাপিং’ স্টোরি নেটপাড়ার চর্চাকে আরও বাড়িয়ে দিল।