রুপোলি পর্দার ঝলকানির আড়ালে চলছিল আর এক নিরবচ্ছিন্ন লড়াই। অবশেষে পড়ল সেই অধ্যায়ের ইতি। জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলীলা এখন একজন চিকিৎসক! অভিনয় আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের পড়াশোনা -দুই সমান্তরাল জগত সামলে ছ’ বছর পর মুম্বইয়ের ডি ওয়াই পাটিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হলেন তিনি। ১০ ফেব্রুয়ারির সমাবর্তন অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। অনুরাগীদের গর্ব, উচ্ছ্বাস -সব মিলিয়ে যেন উৎসবের আবহ।

সমাবর্তনের এক ছবিতে দেখা যায়, মেরুন রঙের গাউন পরে মঞ্চে ডিগ্রি গ্রহণ করছেন শ্রীলীলা। আর একটি ভিডিয়োয় ডাক পাওয়ার আগে সহপাঠীদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। নাম ঘোষণার পর মঞ্চ থেকে নেমেই পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরেন -সেই মুহূর্তে চোখেমুখে স্পষ্ট আবেগের ছাপ। আরও একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, সহপাঠীদের সঙ্গে আধুনিক রীতিতে চিকিৎসকদের শপথ পাঠ করছেন তিনি। “২০২০ ব্যাচের চিকিৎসক” হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধুদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন শ্রীলীলা। ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখেন।
শ্রীলীলার এই সাফল্যে মুগ্ধ অনুরাগীরা। সমাজমাধ্যমে এক জন লিখেছেন, “আমরা কখনও পাস নম্বর তুলতে হিমশিম খাই… আর তিনি সিনেমায় অভিনয় করতে করতেই এমবিবিএস শেষ করলেন!” অন্য আর এক জনের মন্তব্য, “এত সহজে চিকিৎসাশাস্ত্রের ডিগ্রি? নিশ্চয়ই তিনি অসাধারণ মেধাবী।”
কেউ আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই সময়েই তিনটি শিশুকে দত্তক নিয়েছিলেন শ্রীলীলা। ফলে দায়িত্ব ছিল আরও বেশি। অনেকেই লিখেছেন, “ডা. শ্রীলীলা -কুর্নিশ আপনাকে। সিনেমার শুটিং, এত ব্যস্ত সময়সূচি, জনজীবনের চাপ...তার মধ্যেও চিকিৎসাশাস্ত্রের ডিগ্রি সম্পূর্ণ করা? এটা শৃঙ্খলার চূড়ান্ত উদাহরণ।”
২০০১ সালে আমেরিকার ডেট্রয়েটে এক তেলুগু পরিবারে জন্ম শ্রীলীলার। বড় হয়ে ওঠা বেঙ্গালুরুতে। তাঁর মা স্বর্ণলতা পেশায় স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসার পরিবেশে বড় হওয়া শ্রীলীলার জীবনে অভিনয় ও চিকিৎসা -দুটি পথই সমান্তরালভাবে এগিয়েছে।
২০১৭ সালে তেলুগু ছবি ‘চিত্রাঙ্গদা’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর পর্দায় আত্মপ্রকাশ। ২০১৯ সালে কন্নড় ছবি ‘কিস’-এ নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। একই বছরে ‘ভারাতে’-তেও অভিনয়। ২০২১ সালে ‘পেল্লি সন্দাডি’ দিয়ে তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠা পান। এরপর একের পর এক ছবি ‘ধামাকা’, ‘ভগবন্ত কেশরী’, ‘গুন্টুর কারাম’। রবি তেজা, বালকৃষ্ণ, মহেশ বাবুর মতো তারকাদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’-এর বিশেষ গানে তাঁর উপস্থিতি আসমুদ্রহিমাচল ভারতের নজর কাড়ে।
২০২৫ সালে ‘রবিনহুড’, ‘জুনিয়র’, ‘মাস জাতারা’-র মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। এ বছর তামিল ছবির জগতে ‘পরাশক্তি’ দিয়ে পা রেখেছেন। সামনে রয়েছে অনুরাগ বসুর হিন্দি ছবিতে কার্তিক আরিয়ানের সঙ্গে অভিষেক। পাশাপাশি পবন কল্যাণের সঙ্গে ‘উস্তাদ ভগৎ সিং’ এবং ধনুষ ও সাই পল্লবীর সঙ্গে আর এক অনামী প্রজেক্ট।
&t=313s
একদিকে আলো ঝলমলে চলচ্চিত্র দুনিয়া, অন্যদিকে দীর্ঘ অধ্যবসায়ের চিকিৎসা শিক্ষা -এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা সহজ কাজ নয়। শ্রীলীলার সাফল্য যেন সেই বার্তাই দেয় যে স্বপ্ন যদি পরিষ্কার হয়, লক্ষ্য যদি স্থির থাকে, তবে পথ যত কঠিনই হোক, শেষমেশ জয় সম্ভব।
এখন তিনি শুধু তারকা নন, তিনি ‘ডা. শ্রীলীলা’। আর এই উপাধি, নিঃসন্দেহে, তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গর্বের অর্জনগুলির একটি।
