মায়ের দেখা পাত্রকে বিয়ে করার বদলে কলকাতায় এসে উচ্চশিক্ষা লাভ করতে চায় দুলারী। স্বপ্ন সফল করতে গুলতির হাত ধরে চলে এসেছে কল্লোলিনী তিলোত্তমায়। কিন্তু কলেজে ভর্তি হতে পারল কী? কোন কোন বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে সে? কী চলছে ‘দুলারী’র সেটে? জানতে আজকাল ডট ইন পৌঁছে গিয়েছিল ম্যাকনেইল স্টুডিওতে।
টিপটিপ করে বৃষ্টি হয়ে চলছে, এদিকে বেলাও পড়ে আসছে। কমে আসছে আলো। তার মধ্যেই ফ্লোরের বাইরে চলছে শুটিং। ছাউনি টাঙিয়ে, জল কাদা উপেক্ষা করেই শট দিয়ে চলেছে দুলারী, অনুষা আর প্রমিতা দেবী। ফাঁক পেলে অবশ্য একদিকে দুলারীর ঠাকুমা যেমন অল্প বিশ্রাম নিয়ে নিচ্ছিলেন, তেমনই অনুষা-দুলারী মেতে উঠছিল গল্প আড্ডায়। আর তেমনই দু’টো শটের ফাঁকে দুলারী এবং অনুষা ওরফে দেবপ্রিয়া বসু এবং কথা চক্রবর্তী জানালেন, অনস্ক্রিন যতই তাঁদের ঝগড়া, ঝামেলা লেগে থাক, বাস্তবে তাঁরা দারুণ ভাল বন্ধু। কথা বলেন, “অনস্ক্রিনের একদম উল্টো বাস্তবেটা। এই সেটে সবথেকে ভাল বোধহয় আমরা দু’জনই।” কথাকে কথার মাঝেই থামিয়ে ভুল ধরিয়ে দেন দেবপ্রিয়া। বলেন, “এই অদ্বিতীয়াদি রেগে যাবে। মানে গুলতি। আমাদের তিনজনের কেমিস্ট্রি খুব ভাল।”
কথা চক্রবর্তীকে এতদিন দর্শক ইতিবাচক চরিত্রেই মূলত দেখেছেন। এই প্রথমবার তিনি নেতিবাচক চরিত্রে ধরা দিলেন। খলনায়িকার চরিত্র কি ভেবেচিন্তেই নিয়েছেন তিনি? দুলারীর অনুষা তথা কথা বলেন, “‘আকাশ কুসুম’ শেষ হওয়ার পর এই প্রজেক্টে ঢোকার আগে প্রচুর বাছবিচার করেছি। এরকম নয় যে প্রথমবার আমার কাছে এমন সুযোগ এসেছে। কিন্তু না করে দিচ্ছিলাম। তারপর একদিন মনে হল, এইটা তো আমি বিচার করার কেউ নই। আমি অভিনেত্রী, আমার কাজ অভিনয় করা। আমি বরাবর পজিটিভ চরিত্র করেছি, নেগেটিভ এই প্রথমবার। চরিত্রটা খুব ইন্টারেস্টিং, আমাকে অনেক কিছু পলিশ করতে হচ্ছে, অনেক খাটতে হচ্ছে, সেটা আমার ভাল লাগছে।”
‘‘দুলারী’কে কেন ৫টার স্লটে দেওয়া হল?’ সমাজমাধ্যম খুললেই নীল ভট্টাচার্যের অনুরাগীদের এই একটাই প্রশ্ন। অভিনেতা নিজেও কি স্লট নিয়ে ভাবছেন? স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করার ফাঁকেই বললেন, “এগুলো আমাদের হাতে থাকে না। যখন একটা সিরিয়াল করতে আসি, আমি দেখি যে স্ক্রিপ্ট ভাল কিনা। আমার চরিত্রটা করতে ভাল লাগছে কিনা। প্রথমে কেউ অভিনেতাদের জানায় না যে সিরিয়াল কোন স্লটে আসছে। ৫-৫.৩০টা যে স্লটেই আসুক, মানুষের ভাল লাগছে কিনা সেটাই জরুরি।”
বৃষ্টি মাথায় নিয়েই, সমস্ত প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে শুটিং চলতে থাকে ‘দুলারী’র। কখনও ফ্লোরের মধ্যেই কলেজের দৃশ্যের, কখনও ফ্লোরের বাইরে শুটিং চলতে থাকে। নিজে সবটা দেখেশুনে সামলে রাখেন ‘ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ’, তথা পরিচালক স্বর্ণেন্দু সমাদ্দার। ব্যস্ততার শেষ ছিল না তাঁর। কিন্তু তার মাঝেও আড্ডার জন্য অল্প সময় বের করলেন। আর তখনই কথা বললেন টিআরপির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে।
স্বর্ণেন্দু বলেন, “আমার এত বছরের কেরিয়ারে এই প্রথম কোনও সিরিয়াল করছি যার প্রথম সপ্তাহের কোনও রেটিং আমি পেলাম না। আমি চ্যানেলকে অনেকবার মেসেজ করি ফিডব্যাক জানতে চেয়ে। ফলে টিআরপি না আসায় মোটেই স্বস্তিতে নেই। আমি সবসময় চাই রেজাল্ট জানতে। টিআরপি আসছে না বলে বেঁচে গেলাম, এটা একদমই নয়। বরং এটা টেনশনের। রেটিং আসুক, তাহলেই জানব খারাপ হচ্ছে না ভাল। খারাপ হলে সেটাকে ভাল কী করে করা যায়, ভাল হলে আরও ভাল কী করে করা যায় সেটা চেষ্টা করব। কার সঙ্গে আমার কম্পিটিশন সবটা বোঝা যায়। এটা জানলে কাজ করতে সুবিধা হয়।”
আড্ডা যখন প্রায় শেষের পথে, তখন আবারও বৃষ্টি শুরু হয়। এদিকে দিনের আলোও প্রায় মরে এসেছে। কিন্তু তাই বলে কি শুটিং শেষ? একদম না। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই কাজে ফিরল গোটা 'দুলারী'র টিম।
















