১৩০০ কোটির ‘ধুরন্ধর’ আর ‘ধুরন্ধর ২’র ১০০০ কোটি টাকার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা — এই ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্রেজ এখন তুঙ্গে। তবে বিনোদনের গণ্ডি পেরিয়ে সেই উত্তাপ যে স্কুলের পরীক্ষার খাতায় এসে ঠেকবে, তা ছিল কল্পনার অতীত। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে জনৈক ইউজার একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে এক কমার্স শিক্ষক তাঁর ছাত্রদের জন্য তৈরি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ‘ধুরন্ধর’-এর চরিত্রদের ব্যবহার করেছেন।


ভাইরাল হওয়া সেই প্রশ্নপত্রে দেখা যাচ্ছে, পার্টনারশিপ ফার্মের লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্ব (Profit-sharing ratio) বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে জামিল জামালি, এসপি চৌধুরী আসলাম এবং ইয়ালিনা জামালির নাম। মজার বিষয় হল, প্রশ্নের একটি অংশে সরাসরি ছবির প্রেক্ষাপট টেনে লেখা হয়েছে,  “২০২৫ সালের ৫ই ডিসেম্বর রহমানের মৃত্যু হয়েছে।” ব্যালেন্স শিট থেকে শুরু করে রিটায়ারমেন্ট— সব জায়গাতেই ধুরন্ধর-এর ছোঁয়া দেখে ছাত্ররা যেমন তাজ্জব, তেমনই মজেছেন নেটিজেনরাও।


এই অভিনব প্রশ্নপত্রটি ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে মজাদার সব কমেন্টের বন্যা। এক ইউজার কৌতুক করে লিখেছেন, “সবাই নিশ্চয়ই দাউদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ২০.১৬% চড়া সুদে শোধ করছে!” অন্য এক বিজ্ঞানের ছাত্র আক্ষেপ করে লিখেছেন, “আমি যদি কমার্সের ছাত্র হতাম, তবে এই প্রশ্নপত্রটা খুব আনন্দ করে সমাধান করতাম। ছবিটা সত্যিই কাল্ট হয়ে গেছে।” এমনকি ছবির প্লট নিয়ে রসিকতা করে একজন লিখেছেন, “হামজা আলি মাজারি আসলে রহমান ডাকাতকে খতম করে পুরো ফার্মের একচ্ছত্র মালিক হয়ে গিয়েছে!”

 

 

উল্লেখ্য, গত ১৯শে মার্চ মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ মাত্র কয়েক দিনেই বিশ্বজুড়ে ১০০০ কোটি টাকার মাইলফলকের দিকে এগোচ্ছে। আদিত্য ধরের এই পরিচালনা যে কেবল বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে, এই ভাইরাল প্রশ্নপত্র তারই জলজ্যন্ত প্রমাণ। পুলিশ, বড় বড় ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে এবার স্কুলের শিক্ষক, সবাই এখন ‘ধুরন্ধর’ জ্বরে আক্রান্ত।

 

অবশ্য মুক্তির পর থেকেই ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তানেও আলোচনার কেন্দ্রে রণবীর সিং অভিনীত স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। আদিত্য ধরের এই ছবি একের পর এক বক্স অফিস রেকর্ড গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এই সাফল্যের মাঝেই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন অভিনেতা আদিত্য উপ্পল। ছবিতে সঞ্জয় দত্তের ডান হাত অর্থাৎ এএসপি ওমর হায়দরের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি যেমন প্রশংসা পাচ্ছেন, তেমনই পাকিস্তান থেকে পাচ্ছেন প্রাণনাশের হুমকি!

 

 


আদিত্য উপ্পল জানিয়েছেন, পাকিস্তানে কর্মরত আসল পুলিশ অফিসার ওমর হায়দার (যিনি বর্তমানে করাচির এসপি) স্বয়ং অভিনেতার কাজ লক্ষ্য করেছেন। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আদিত্য জানান, দুবাইয়ের এক প্রভাবশালী পাকিস্তানি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে আসল ওমর হায়দার তাঁর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ঘুরে দেখেছেন। এমনকী উইকিপিডিয়াতে ওমর হায়দারের পেজে ‘পপুলার কালচার’ সেকশনেও আদিত্য উপ্পলের নাম যুক্ত হয়েছে।বিদেশের মাটিতে থাকা পাকিস্তানি দর্শকদের থেকে ভালবাসা ও প্রচুর প্রশংসা পেলেও, সরাসরি পাকিস্তান থেকে ভয়ঙ্কর সব বার্তা আসছে আদিত্যর কাছে। অভিনেতা জানান, “অনেকে আমায় মেসেজ করে হুমকি দিচ্ছে। এমনকি সামনে পেলে শারীরিক ক্ষতি করার ভয়ও দেখানো হচ্ছে।” যদিও এই সমস্ত হুমকির মুখে অভিনেতা শান্তভাবে তাঁদের বোঝাচ্ছেন যে, তিনি কেবল একজন অভিনেতা এবং নিজের চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

 

 

&t=2069s