তাঁর নিখুঁত অভিনয় আর চাউনি দুই বাংলার কোটি কোটি দর্শকের বুকে ঝড় তোলে। ‘আয়নাবাজি’, ‘হাওয়া’ কিংবা ওঁর একের পর এক ওয়েব সিরিজের ম্যাজিকে মুগ্ধ আপামর বিনোদনপ্রেমী। কিন্তু পর্দার সেই অদম্য অভিনেতা বাস্তব জীবনের এক আবেগপ্রবণ সন্তানও। তিনি, চঞ্চল চৌধুরী। আজ আন্তর্জাতিক পিতৃদিবসে ওঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শূন্যতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ফ্রেমবন্দি করলেন তাঁর মনের মধ্যে ঝড়কে।
২০২২ সালের ২৭শে ডিসেম্বর চঞ্চল ওঁর বাবা রাধা গোবিন্দ চৌধুরীকে হারিয়েছিলেন। আজ প্রায় চার বছর কেটে গেলেও ‘বাবা’ শব্দের সেই শূন্যতা যে ওঁর বুকে কতটা ভারী হয়ে পাথর হয়ে রয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক আবেগঘন পোস্ট আর সলিল চৌধুরীর কবিতার আবৃত্তিতে তা প্রকাশ করলেন অভিনেতা।

চঞ্চল চৌধুরী ওঁর পোস্টে আজ এক চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লিখেছেন, বিগত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা থেকে বাবা দিবস উপলক্ষে ওঁর কাছে ইন্টারভিউ চাওয়া হচ্ছিল। বাবাকে নিয়ে কিছু স্মৃতিচারণ করার অনুরোধ আসছিল। কিন্তু অভিনেতার পাল্টা প্রশ্ন— “কী বলব, বলেই বা কী লাভ? বাবাকে হারিয়েছি প্রায় চার বছর আগে! ‘বাবা’ শব্দটা বুকের ভেতর থেকে বের হয়ে মুখে আটকে আছে চারটা বছর!”
গতকাল শনিবার রাতে কোনওভাবেই ঘুম আসছিল না ওঁর। বাবার স্মৃতি এতটাই গ্রাস করেছিল যে বারবার লাইট জ্বালিয়ে ফ্রেমে বাঁধানো বাবার ছবিটার দিকে তাকিয়ে ছিলেন তিনি। চঞ্চল বললেন, “গতকাল রাতে ঠিক কোনও ভাবেই ঘুম আসছিল না! বাবার কথা খুব মনে পড়ছিল! বার বার লাইট জ্বালিয়ে ফ্রেমে বাঁধানো বাবার ছবিটা দেখছিলাম। তারপর সলিল চৌধুরীর লেখা এই কবিতাটার কথা মনে হল। বার বার গলা কাঁপছিল, চোখ ভিজে যাচ্ছিলো….. শেষ পর্যন্ত কবিতাটা মোবাইল ফোনে রেকর্ড করলাম।”

চঞ্চল ওঁর ভক্তদের উদ্দেশ্যে সেই আবৃত্তি করা অডিও ক্লিপটি শেয়ার করে লিখেছেন, মাথার ওপর থেকে যখন বাবার ভরসা আর স্নেহের হাতটা চলে যায়, পিতৃহারা সন্তানেরা তখনই কেবল বুঝতে পারে যে এই বিশাল পৃথিবীটা আদতে কতটা ফাঁকা! ওঁর এখন একটাই প্রার্থনা— আর কিছু না হোক, অন্তত বাবার দেওয়া সততা আর আদর্শ ধারণ করে যেন ওঁর বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারেন।
অনুরাগীরা জানেন চঞ্চলের ব্যক্তিজীবনের সিংহভাগ জুড়ে ছিলেন তাঁর বাবা রাধা গোবিন্দ চৌধুরী। ২০২২ সালে বাবার মৃত্যুর ঠিক দুদিন পর ফেসবুকে এক দীর্ঘ বেদনার কথা লিখেছিলেন চঞ্চল। ওঁর সেই পুরোনো পোস্টটি আজও অনুরাগীদের চোখে জল এনে দেয়, যেখানে তিনি লিখেছিলেন— “গতকাল নিজগ্রাম কামারহাটের পদ্মাপাড়েই তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাবা মিশে গেল এই গ্রামেরই আলো বাতাসে, পদ্মার জলে। সন্ধ্যায় ধর্মীয় আচার শেষে যখন নদীর পাড় থেকে বাড়ি ফিরলাম, তখন ভুলেই গিয়েছিলাম যে, বাবাকেই তো নদীর পাড়ে রেখে এসেছি।”
উল্লেখ্য, মৃত্যুর বেশ কয়েক দিন আগে অভিনেতার বাবার সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়েছিল। তারপর থেকেই বার্ধক্যজনিত নানান জটিল সমস্যা নিয়ে ঢাকার এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। আজ চঞ্চলের অভিনয় দুই বাংলা জয় করলেও, ওঁর জীবনের প্রধান পথপ্রদর্শক রাধা গোবিন্দ চৌধুরীর শূন্যস্থান যে কোনও পুরস্কারেই পূরণ হওয়ার নয়, তা ওঁর এই আবেগভরা গলার আবৃত্তিই মনে করিয়ে দিল। স্পষ্টভাবেই।















