বাংলা ভাষা নিয়ে বিতর্ক, পরিযায়ী বাঙালিদের উপর অপমান -এই আবহেই নতুন করে আলোচনায় এল একটি মিউজিক ভিডিও। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ ঘনিয়েছে। শুধু বাংলা বলার অপরাধে তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে হেনস্থার ঘটনা সামনে এসেছে একাধিকবার। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর অধীন দিল্লি পুলিশের এক চিঠিতে বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলে উল্লেখ করা ঘিরে তুমুল বিতর্ক ছড়ায়। প্রশ্ন ওঠে, যে ভাষায় রচিত দেশের জাতীয় সঙ্গীত, তাকে কীভাবে বিদেশি তকমা দেওয়া যায়?

এই ইস্যুতে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । তিনি চিঠিটি প্রকাশ্যে এনে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে কড়া আক্রমণ করেন। এরপর থেকে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক পরিসর-বাংলা ভাষার মর্যাদা নিয়ে প্রতিবাদের সুর জোরদার হয়। অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতো তারকারাও এ বিষয়ে প্রতিবাদ করেন।

এবার সেই প্রতিবাদের সুরই উঠে এল অভিনেত্রী সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন মিউজিক ভিডিও ‘জিতে দেখা’-তে। ছোটপর্দার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী ‘রাঙামতী তিরন্দাজ’ ধারাবাহিকে তাঁর নেতিবাচক চরিত্রে নজর কাড়ার পর এবার একেবারে অন্য বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন। শুভঙ্করের পরিচালনায় নির্মিত এবং বুদ্ধদেবের সম্পাদনায় প্রকাশিত ভিডিওটি ইতিমধ্যেই আলোচনায়।

 

ভিডিওর কাহিনিতে দেখা যায়, মঞ্চে উঠে সুদীপ্তা ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গাইতেই দর্শকাসনের একাংশ থেকে তাঁকে ‘বাংলাদেশি’ বলে কটাক্ষ করা হয়, এমনকি বাংলা ভাষাকেও হেয় করা হয়। প্রথমে থমকে গেলেও মুহূর্তেই প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন তিনি। দৃপ্ত কণ্ঠে মনে করিয়ে দেন, এই বাংলার মাটিতেই জন্মেছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং রাজা রামমোহন রায়-এর মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর সংলাপ, “আমরা বাংলায় কথা বলব, বাংলায় গাইব, বাংলায় প্রেম করব আর প্রয়োজনে প্রতিবাদও করব” ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

 

ভিডিওতে পরে ভেসে ওঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেক ব্যানার্জির ছবি, যা স্পষ্ট করে দেয়, এখানে প্রেক্ষাগৃহটি আসলে বাংলার প্রতীক, আর ভাষা-অপমানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদই মূল বার্তা।

 

&t=313s

 

শেষ দৃশ্যে ফের মঞ্চে উঠে বাংলা গান গাইতে দেখা যায় সুদীপ্তাকে। আর একে একে হল ছেড়ে বেরিয়ে যায় কটূক্তিকারীরা। গান শেষে তাঁর দৃপ্ত ঘোষণা, “বাংলার মাটি, দুর্জয় ঘাঁটি। জিতে দেখা!”

রাজনীতি, সংস্কৃতি আর ভাষা-অস্তিত্বের প্রশ্ন, সব মিলিয়ে ‘জিতে দেখা’ শুধু একটি মিউজিক ভিডিও নয়, বরং সময়ের প্রেক্ষাপটে এক প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক বক্তব্য বলেই মনে করছে অনেকেই।