অরিন্দম শীলের ‘কর্পূর’ ছবির বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আসতেই একদিকে যেমন নড়েচড়ে বসেছিল টলিপাড়া,তেমনই অন্যদিকে বাংলার রাজনৈতিক মহল। নয়ের দশকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ামক মনীষা মুখোপাধ্যায়ের অন্তর্ধান রহস্য আজও  মীমাংসিত হয়নি। সেই ঘটনা ঘিরে নির্মিত এই ছবি অজানা অনেক প্রশ্নের উত্তর দেবে। পলিটিকাল থ্রিলারধর্মী ছবির পোস্টার মুক্তি পেয়েছিল আগেই। এবার প্রকাশ্যে এল ছবির প্রথম ঝলক। বামনেতা অনিল বিশ্বাসের চরিত্রে এই ছবিতে দেখা যাবে কুণাল ঘোষ-কে। এই ছবির মাধ্যমেই বড়পর্দায় অভিনেতা হিসেবে অভিষেক হচ্ছে তাঁর। ‘কর্পূর’-এ মনীষা মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে রয়েছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন ব্রাত্য বসু, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাহেব চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। একটি বিশেষ চরিত্রে দেখা যাবে খোদ অরিন্দম শীল-কে। 


ছবির প্রথম ঝলকেই আঁচ পাওয়া গিয়েছে ছবিজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা টানটান রহস্য, থ্রিলের।সেই বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণাতেই নির্মিত এই রাজনৈতিক থ্রিলার, যা বহু অজানা প্রশ্নের সামনে দর্শককে দাঁড় করাতে পারে—এমনই ইঙ্গিত মিলছে ছবির প্রথম ঝলক থেকে। ‘কর্পূর’-এর প্রথম ঝলক থেকে যা আরও টের পাওয়া গেল, তা মোটামুটি অনেকটা এরকম - ১৯৯৭ সাল। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মৌসুমী সেন হঠাৎই উধাও হয়ে যান বহুল আলোচিত ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতিকাণ্ডের মধ্যে। শিরোনামে ছড়িয়ে পড়ে খবর, তিনি নাকি পালিয়ে গেছেন লন্ডনে। কিন্তু তদন্তে যুক্ত এক পুলিশ আধিকারিক, যাঁর কণ্ঠ পরে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়, সন্দেহ করেছিলেন আরও গভীর এক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের।

 

 

সময়ের স্রোতে কেটে যায় প্রায় তিন দশক। ঘটনাটি ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায় প্রশাসনিক ফাইলের স্তূপে। ঠিক তখনই পুরনো সেই কেসের ধুলো ঝাড়তে নামেন এক তরুণ সাংবাদিক -অনুপম। তাঁর ছোটাছুটি, অনুসন্ধান খুলে দেয় এক জটিল গোলকধাঁধা, যেখানে ব্যক্তিগত দুর্নীতি নয়, উন্মোচিত হতে থাকে প্রাতিষ্ঠানিক পচন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক নীরবতার ইতিহাস। ঝলকের একেবারে শেষে আবহ থেকে ভেসে আসে একটি জলদমন্দ্র স্বর – “মৌসুমী সেনের দেহ আর কোনওদিনও খুঁজে পাওয়া যাবে না।”

 

&t=313s

আগামী ১৯ মার্চ বড়পর্দায় মুক্তি পাবে ‘কর্পূর’।এখন দেখার, বহুদিনের চাপা রহস্যকে কতটা উন্মোচন করতে পারে এই রাজনৈতিক থ্রিলার।