গত ৪ এপ্রিল এক স্মরণীয় সন্ধ্যার সাক্ষী থাকল বাচিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘অনুপ্রাণন’। তাদের পাঁচ বছরের পথচলা উদযাপিত হল ‘অদম্য’ শিরোনামের এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। অল্প সময়ে এই প্রতিষ্ঠান যে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছে, তার প্রমাণ মিলল এই আয়োজনে।

অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য এবং অনুপ্রাণনের কর্ণধার নন্দিনী লাহা সোম-এর পরিবেশনায় মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের শ্রুতিনাটক ‘সুন্দর’। শ্রীকান্ত আচার্যের গভীর ব্যারিটোন কণ্ঠ এবং মাপা অভিব্যক্তির সঙ্গে নন্দিনীর প্রাঞ্জল স্বরাভিনয় মিলিয়ে ‘সুন্দর’-এর সৌরভ আর মল্লিকা যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে মঞ্চে।

এছাড়াও বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী ও মধুমিতা বসু পরিবেশন করেন স্বপন গাঙ্গুলির ‘ফুলশয্যা’। তাঁদের অভিনয় দর্শকরা প্রভূত আনন্দ দিয়েছে।

অনুপ্রাণনের তিন থেকে তিয়াত্তরের সদস্যরাও দীর্ঘ তিন ঘন্টার পরিবেশনায় বুঁদ করে রেখেছিল দর্শকদের। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে সশস্ত্র সংগ্রামের অবদান নিয়ে 'চিরপ্রণম্য অগ্নি',কবি হিসেবে রবীন্দ্রনাথের সন্ধ্যাসঙ্গীত থেকে গীতাঞ্জলির যাত্রাপথ নিয়ে 'যাত্রাপথের আনন্দগান', পূর্ণেন্দু পত্রীর 'রাম রাবণের ছড়া', রবীন্দ্রনাথের 'শিশু' থেকে 'বলাকা' হয়ে 'কথা'য় মাত্রাবৃত্ত ছন্দের বিস্তার, উপেন্দ্রকিশোরের ভূতের গল্প, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ছড়া থেকে সহজ পাঠের 'বনে থাকে বাঘ', কী না ছিল তাদের উপস্থাপনায়। 

সত্যজিৎ রায়ের 'খগম'-র একটি সম্পাদিত রূপ শ্রুতিনাটক হিসেবে দারুণ মুন্সিয়ানায় পরিবেশন করেন তিন অনুপ্রাণন সদস্য। একক কবিতার দুটি পর্বে বিভিন্ন জনপ্রিয় কবিতার পাশাপাশি শোনানো হয় বেশ কিছু স্বল্পপঠিত কবিতা। নবীন থেকে প্রবীণ প্রত্যেত সদস্যের আবৃত্তি উপস্থাপনা ছিল স্মৃতিধার্য। 

ঠিক বিকেল পাঁচটায় প্রার্থণা দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু থেকে প্রতিটি পর্বের উপস্থাপনা ছিল ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে, যা উল্লেখ করতেই হয়। সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচ বছরেই অনুপ্রাণন যে অদম্য হয়ে উঠেছে তার প্রমাণ দিল সেদিনের অনুষ্ঠান। 

তরুণকান্তি বারিকের মিনিম্যালিস্টিক মঞ্চ, দীপঙ্কর দে-র মায়াবী আলো, আর হাসি পাঞ্চালের ধ্বনি প্রক্ষেপণ সমগ্র অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছিল।