সঙ্গীতের দুনিয়ায় ৪৫ বছর পার করার পর এবার জীবনের নতুন এক অধ্যায়ে পা রাখলেন কিংবদন্তি সুরকার অনু মালিক। বড়পর্দা আর টেলিভিশন রিয়্যালিটি শো-এর পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে এবার তিনি প্রবেশ করলেন থিয়েটারের মঞ্চে। অনুপম খের ও স্বরূপ সম্পত অভিনীত ‘জানে পেহচানে আনজানে’ নাটকের মাধ্যমে মঞ্চের সংগীতে অভিষেক ঘটছে তাঁর। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডে একের পর এক হিট গান উপহার দেওয়ার পর, এই নতুন মাধ্যমকে তিনি দেখছেন এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে।
মঞ্চ নাটকের জগতে আসা নিয়ে অনু মালিক জানান, অনুপম খের স্বয়ং তাঁকে এই কাজের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। অভিনেতা হিসেবে অনুপমের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা চিরকালই গভীর। তবে থিয়েটারের জন্য সুর করাটা চলচ্চিত্রের থেকে একেবারেই আলাদা। অনুর মতে, সিনেমায় বিশাল সেট, কোরিওগ্রাফি বা অ্যাকশনের সাহায্য থাকে যা গানকে জনপ্রিয় করতে সাহায্য করে। কিন্তু মঞ্চে সেই সুযোগ নেই। সেখানে সুর আর কথাকেই সরাসরি দর্শকের হৃদয়ে পৌঁছাতে হয়। একবার ভুল হলে সংশোধনের দ্বিতীয় কোনো সুযোগ সেখানে পাওয়া যায় না।
গজেন্দ্র আহিরে পরিচালিত এই নাটকে মোট চারটি গান থাকছে। অনু মালিক জানিয়েছেন, গানের সুর করার ক্ষেত্রে তিনি সেই পুরনো ঘরানার ‘মেলোডি’ বা মাধুর্যের ওপরই জোর দিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, সুর যদি হৃদয়ে না গেঁথে যায়, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এই প্রজেক্টে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন গীতিকার কৌশল মুনীর। গানের কণ্ঠ দিয়েছেন শান, সুখবিন্দর সিং এবং মারাঠি গায়িকা আনন্দী জোশী।
এক সাক্ষাৎকারে অনু মালিক বলেন, "এটা আমার কাছে ভীষণ ভাল লাগার বিষয়। আমি অনুপমজিকে শুধুমাত্র একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা বা অভিনেতা হিসেবেই নয়, একজন মানুষ হিসেবেও অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি। তিনি যখন নিজে আমার কাছে প্রস্তাব নিয়ে এলেন, তখন না বলা সম্ভব ছিল না। আমি আগে কখনও মঞ্চ নাটকের কাজ করিনি, কিন্তু নাটকটির চিত্রনাট্য শোনার পর আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আমার দেখা অন্যতম আবেগঘন একটি নাটক এটি। তিনি যখন আমাকে বললেন যে এই কাজের জন্য আমিই উপযুক্ত ব্যক্তি, তখন আমি এটাকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করি। আসলে নতুন কিছু করার আনন্দই আলাদা। এছাড়া অনুপম যেভাবে নিজের সঙ্গীত ও অভিনয় নিয়ে কাজ করেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক।"
অনুপম খের তাঁকে মূলত তাঁর সুরেলা সৃজনশীলতার জন্যই পছন্দ করেছেন বলে অনু মালিক মনে করেন। তাঁর কথায়, "আমার মনে হয় তিনি এমন সুর চেয়েছিলেন যা নাটকটির গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাঁর মতো একজন প্রতিভাবান মানুষ যখন আমার ওপর আস্থা রেখে আমাকে সম্মান দিয়ে এগিয়ে আসেন, তখন সেটা অনেক বড় প্রাপ্তি হয়ে দাঁড়ায়। তিনি যখন আমার সম্পর্কে এমন সুন্দর কথা বলেছিলেন, তখন আমার খুব ভাল লেগেছিল।"
