গত ৮ জানুয়ারি বেসরকারি রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি বানানোর কোম্পানি আইপ্যাকের সল্টলেক অফিস এবং সহকর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে রেইড করে ইডি। সেখানেই হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যান প্রতীকের বাড়ি এবং অফিস দুই জায়গায়। একাধিক ফাইল সহ একটি সবুজ রঙের ফাইল, পেন ড্রাইভ নিয়ে বেরিয়ে আসেন। তোপ দাগেন বিজেপির বিরুদ্ধে। জানান তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা, নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি হাতিয়ে নিতে চেয়েছিল পদ্ম শিবির। বিজেপির এই কাজ এবং ইডির রেইডের বিরোধিতা করে ৯ জানুয়ারি যাদবপুর ৮বি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিল করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখকে। তবে সদ্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে আসা রূপাঞ্জনা মিত্র এবং পার্নো মিত্র গরহাজির ছিলেন। প্রতিবাদ মিছিলে না থাকলেও এদিন রূপাঞ্জনা সমাজমাধ্যমে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে মমতার পাশে দাঁড়ান।
রূপাঞ্জনা এদিন তাঁর পোস্টে বিজেপিকে ইংরেজের দালাল থেকে শুরু করে স্যাডিস্ট, ফ্যাসিস্ট সহ একাধিক আখ্যা দেন। জানান তিনি বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে ভাল করেছেন। অভিনেত্রী তাঁর পোস্টে লেখেন, 'আপনাদের গুজরাট গণহত্যার কথা কেউ ভুলে যায়নি। ধর্মের নামে তথাকথিত ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ’ ঘটিয়ে আপনাদের রক্তমাখা মুখ আজ দিল্লির ‘সিরতাজ’ হয়ে বসেছে। SIR নামে তথাকথিত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন যে কোনও ভাবেই মাত্র দুই মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করা সম্ভব নয়, তা আপনারাও ভাল করেই জানেন। তাই রাজ্যকে চাপ দেওয়া ও হেনস্থা করাই আপনাদের শকুনিসুলভ কৌশল, যার বহু ধাপ ও রূপ রয়েছে। কালো টাকা উদ্ধারের নামে ৮ই নভেম্বর, ২০১৬ সালে রাতারাতি নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আপনাদের তথাকথিত ‘লর্ডসাহেবরা’। আশা করি বাংলার মানুষ সেই অভিজ্ঞতা ভোলেননি। সেবারের মতোই এবারও SIR-এর নামে সেই একই খেলা— কোল্যাটারাল ড্যামেজকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গকে নিশানা করা হচ্ছে।'
তিনি এদিন আরও লেখেন, 'আজ বাংলার ছেলেমেয়েরা সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ হয়ে নিজেদের অসুস্থ বাবা-মাকে লাইনে দাঁড় করাতে বাধ্য হচ্ছে। তবু বাংলার মানুষ নিজের কর্তব্য পালন করতে জানে, কারণ তারা মানবিক, দায়িত্বশীল এবং সব ধর্ম, বর্ণ ও ভাষাভাষীর মানুষের সঙ্গে সম্মান ও সহাবস্থানের সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী। আমাদের প্রতিটি ধর্মীয় উৎসবকে আমরা যথাযথ মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে উদ্যাপন করতে জানি। কাজেই... আপনাদের মতো দুর্বল চিত্তের মানুষদের সাথে ভাগ্যিস দলিয়ে সম্পর্ক ত্যাগ করেছিলাম। আপনারা শুধু ত্রাস বুনতে জানেন, যাতে আপনাদের ইংরেজদের মতোই বিভাজন রাজনীতি আরও মজবুত হয়। তাতেই আপনারা মজা পেয়ে থাকেন। ওটাই আপনাদের ‘দেখ কেমন দিলাম’ -এর মতো একটা স্যাডিস্টিক প্লেজার দেয়। আসলে ওটাই, আপনারা স্যাডিস্ট এবং ফ্যাসিস্ট। ধিক্কার আপনাদের।'
রূপাঞ্জনা মিত্র তাঁর পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার বাঘিনী আখ্যা দেন। লেখেন, 'স্বাধীনতার সময় আপনারা ইংরেজদের দালাল ছিলেন| নিজে যদি আন্দামান (কালাপানি) সেলুলার জেল না দর্শন করতে যেতাম, তাহলে আপনাদের মনের বিষ কতটা বিষাক্ত বুঝতেই পারতাম না এবং আপনারা যে কী, আর কী না করতে পারেন সেটাও বুঝতাম না। আপনাদের আক্রমণের মাধ্যমটা একটু হলেও জানি| বাংলার বাঘিনী আর সূর্যকন্যাকে তাহলে আপনাদের চিনতে এখনও বাকি আছে। শ্রীমতি মমতা বন্দোপাধ্যায় জিন্দাবাদ! যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।'
