সংবাদ সংস্থা মুম্বই: বর্তমানে যাঁর সম্পত্তির পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা এককালে তিনিই দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি, কিংবদন্তি বলি-তারকা অমিতাভ বচ্চন। নয়ের দশকে অভিনয়ের পাশাপাশি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, সিনেমা তৈরি করা ছাড়া ডিস্ট্রিবিউশনের কাজেও মন দিয়েছিলেন অমিতাভ। ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরু করেছিল তাঁর সংস্থা অমিতাভ বচ্চন কর্পোরেশন (এবিসিএল)। যাত্রার বছর তিনেকের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়েছিল অমিতাভের সাধের এবিসিএল। একে ৯০ কোটির দেনার বোঝা, তায় মামলা ঝুলছিল ৫৫টি। হাতে কোনও ছবি না থাকায় আয়ের পথও বন্ধ। বচ্চন পরিবারের সেই অন্ধকারময় জীবনের পর্বের অজানা কথা এবার উঠে এল অমিতাভ-পুত্র অভিষেক বচ্চনের মুখে। 

 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিষেক জানান, তাঁর বাবার জীবনের সেই কঠিন সময়ে বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। অভিষেকের কথায়, " এবিসিএল-এর সুবাদে যে দুর্যোগ বাবার জীবনে নেমে এসেছিল, চেয়েছিলাম ওঁর পাশে সবসময় থাকতে। তাই পড়াশোনা ছেড়ে বিদেশ থেকে বাড়ি ফিরে এসেছিলাম। তখন আমার বাবার কাছে দু'বেলা পেট ভরে খাওয়ার টাকা পর্যন্ত থাকত না। তাঁকে  নিজেদের কর্মচারীদের থেকেও ধার নিতে হয়েছিল। আর আমি কি না এ অবস্থায় বিদেশে বসে পড়াশোনা করব? এ হয় নাকি!  মাথায় তখন এই চিন্তা-ই চলত। তাই একদিন ফোন করে বাবাকে জানিয়েছিলাম, এই কঠিন সময়ে ওঁর পাশে আমি থাকতে চাই। যেভাবে পারি আমার সাধ্যমতো ওঁকে সাহায্য করতে চাই। অন্তত আর কিছু না পারি এটা তো বাবার মনে হবে যে দুঃসময়ে ওঁর ছেলে পাশে রয়েছে। "


'ধুম'-এর নায়ক আরও বলেন, "কাজ চাইতে যশ’জির কাছে চলে গিয়েছিলেন বাবা। আআমাদের বাড়ির পিছনেই ছিল ওঁর বাড়ি। মাঙ্কি ক্যাপে মুখ ঢেকে বাবা গিয়েছিলেন। কারণ তখন তাঁর কাছে গাড়ি পর্যন্ত ছিল না।  কাজ দেওয়ার জন্য ওঁর কাছে অনুনয়-বিনয়ও করেছিলেন বাবা। এরপর কী করেননি তিনি। টানা তিন বছর ধরে বড়পর্দা, ছোটপর্দায় কাজ করা থেকে অজস্র পণ্যের বিজ্ঞাপনের  কাজ -কিচ্ছুটি ফেরেননি তিনি। তখন দিনে ১৮ ঘন্টা কাজ করতেন। ইন্ডাস্ট্রির অনেকে তখন আমাদের দোষ দেখে হাসতেন। বাবা কিন্তু একমনে কাজ করে গিয়েছিলেন। এরপর নিজের বিক্রি হয়ে যাওয়া পুরনো বাড়ি কেনার পাশাপাশি আরও তিনটি বাড়ি কেনেন। " আবেগপ্রবণ গলায় অভিষেক বলে ওঠেন, "আজ তাঁর ৮২ বছর বয়স, এখনও দিনে ১০ ঘন্টা তিনি টানা কাজ করে যান। এই হচ্ছে অমিতাভ বচ্চন!" 

 

নিজের জীবনের ওই পর্ব প্রসঙ্গে অমিতাভ বলেছিলেন, "কোনও সন্দেহ নেই, আমার পেশাদার কেরিয়ারের সবচেয়ে অন্ধকারময় পর্ব ছিল সেই দিনগুলো। কখনও ভুলব না, পাওনাদারের আমাদের দরজায় এসে গালিগালাজ করতেন, হুমকি দিতেন, টাকাপয়সা ফেরত দেওয়ার কথা শোনাতেন।"