সম্প্রতি তৃতীয় বিয়ের পরই আমির খানকে ঘিরে শুরু হয়েছে 'লাভ জিহাদ' বিতর্ক। অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়াও জারি হয়েছে। এবার সেই বিতর্কের জবাব নিজেই দিলেন 'মিস্টার পারফেকশনিস্ট'। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর কোনও স্ত্রীই কখনও ধর্ম পরিবর্তন করেননি।
এক সাক্ষাৎকারে আমির খান বলেন যে তাঁর প্রথম স্ত্রী রীনা দত্ত, দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ রাও এবং বর্তমান সঙ্গী গৌরি স্প্র্যাট, কেউই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেননি। প্রত্যেকেই নিজের নিজের ধর্ম ও বিশ্বাস বজায় রেখেছেন। তাই 'লাভ জিহাদ'-এর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
আমিরের কথায়, "মানুষ যা খুশি তাই বলছে। সময় যত এগোচ্ছে, জীবন ততই হাস্যকর হয়ে উঠছে।" তিনি বলেন, এই ধরনের অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। যারা এসব রটাচ্ছেন, তারা সত্যিটা জানেন না।
অভিনেতার মতে, একটি সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক ভালবাসা, সম্মান এবং বিশ্বাস। সেখানে ধর্মকে টেনে আনা একেবারেই অযৌক্তিক। তিনি জানান, তাঁর জীবনের প্রতিটি সম্পর্কেই একে অপরের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সম্মান করা হয়েছে। তাই তাঁকে 'লাভ জিহাদ'-এর সঙ্গে জড়ানো সম্পূর্ণ ভুল এবং বিভ্রান্তিকর।
গত ৫ জুলাই গৌরি স্প্র্যাটের সঙ্গে বিয়ের পিড়িতে বসেন আমির খান। এরপর থেকেই অভিনেতাকে ঘিরে নানা ধরনের মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ তাঁকে 'লাভ জিহাদ'-এর অভিযোগে কাঠগড়ায় তোলেন। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারির খবরও প্রকাশ্যে আসে। সেই আবহেই অভিনেতা প্রথমবার সরাসরি মুখ খুললেন।
আমির আরও বলেন, তিনি কখনও কারও ওপর ধর্ম পরিবর্তনের চাপ সৃষ্টি করেননি। তাঁর জীবনে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই নিজের পরিচয় ও বিশ্বাস নিয়ে থেকেছেন। তাই মিথ্যা প্রচারে কান না দেওয়ার আবেদনও জানান তিনি।
আমিরের এই বক্তব্য সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ধর্মের সঙ্গে জুড়ে দেখার প্রবণতা সমাজে অযথা বিভাজন তৈরি করে। অভিনেতার বক্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
















