আজকাল ওয়েবডেস্ক: হরিপালের সাহাপুর ময়দানে বুধবার এক জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে সুর চড়ালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। দলীয় প্রার্থী ডাঃ করবী মান্নার সমর্থনে আয়োজিত এই জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ছিল মূলত বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকার। তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে সকাল থেকেই ময়দানে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক। বিশেষ করে মহিলা ও যুব সম্প্রদায়ের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে জনসভাস্থল কার্যত উৎসবের চেহারা নেয়। 

এদিন মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কৃষকদের মন জয়ের চেষ্টা করেন। আলু চাষিদের নিয়ে বিজেপির ‘মিথ্যা অপপ্রচার’-এর কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিজেপি চাষিদের নিয়ে খেলা করছে, অথচ রাজ্য সরকার চাষিদের সুবিধার জন্য সংরক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করেছে যাতে বাইরে থেকে বীজ কিনতে না হয়। উত্তরপ্রদেশের চাষিরা ফসলের দাম পায় না বলে দাবি করে তিনি সাফ জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরাসরি কৃষকদের থেকে আলু কেনে। রেলে করে বাইরে থেকে লোক আনা হলেও আলুর জন্য ট্রেন দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে তিনি চাষিদের পরামর্শ দেন লড়িতে করে আলু পাঠাতে। সেই সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, আলু চাষিদের জন্য রাজ্য সরকারের বিমা পরিষেবা চালু রয়েছে।

রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়ে মমতা ব্যানার্জি বলেন, এই ভোট আগামী দিনে বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। মাছ-মাংস খাওয়া থেকে শুরু করে নিজের ভাষায় কথা বলা যাবে কি না, তা এই নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করছে। ভিন রাজ্য থেকে পুলিশ ও সাঁজোয়া গাড়ি আনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, মণিপুরে যখন অশান্তি হয় তখন এই বাহিনী কোথায় থাকে? কামারপুকুর-বিষ্ণুপুর রেললাইন থেকে শুরু করে তারকেশ্বর ও ফুরফুরা শরীফ উন্নয়ন পর্ষদ গঠন—হুগলি জেলার উন্নয়নে নিজের ভূমিকার কথা এদিন বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। ইসকনের জন্য ৭০০ একর জমি বরাদ্দ এবং দিঘায় জগন্নাথ মন্দির তৈরির কাজও যে তাঁর হাত ধরেই হচ্ছে, সে কথাও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ১০০ দিনের কাজের টাকা, আবাসের টাকা ও কৃষকদের পাওনা আটকে রেখেছে দিল্লি। এমনকি আধার কার্ড সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে সাধারণ মানুষের হেনস্থার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। নাম না করে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি কটাক্ষ করেন যে, দোকানের মাইক থেকে শুরু করে পকেটের ১০ টাকার নোট—সবই আগে থেকে তৈরি করা ‘নাটক’। 

আগামী দিনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীর ভান্ডার আজীবন চালু থাকবে এবং যুবসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের দায়িত্ব নেবে সরকার। ২০২৫ সালের মধ্যে সমস্ত কাঁচা বাড়ি পাকা করে দেওয়া এবং ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। এমনকি ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ প্রকল্পের মাধ্যমে ডাক্তার ও নার্সরা সরাসরি সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা করবেন বলে তিনি ঘোষণা করেন। বক্তব্যের শেষে ২০১১ সালের বিখ্যাত স্লোগান ‘বদলা নয়, বদল চাই’-এর সুর বদলে তিনি ঘোষণা করেন, দিল্লির বিজেপি সরকারকে হঠাতে এবার ব্যালট বক্সেই নিতে হবে প্রকৃত ‘বদলা’।