আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচন মানেই টানটান উত্তেজনা, লম্বা লাইন আর নিরাপত্তার কড়াকড়ি। কিন্তু ঝাড়গ্রামের জিতুশোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে আজ সকালে যা ঘটল, তা সম্ভবত অতি বড় পোড়খাওয়া ভোটকর্মীরও কল্পনার বাইরে ছিল। ভোটের লাইনে ভোটারদের মাঝেই হঠাৎ সশরীরে হাজির এক 'ভিআইপি' ভোটার— এলাকার পরিচিত গজরাজ 'রামলাল'। বৃহস্পতিবার সকালে প্রথম দফার ভোট শুরুর ঠিক আগেই এই হাতির আগমনে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়।

সাধারণত হাতির নাম শুনলেই আতঙ্ক ছড়ায়, কিন্তু এদিন রামলালের মেজাজ ছিল বেশ ফুরফুরে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেন, শান্ত পায়ে বুথের সামনে হাজির হয়ে সে কিছুক্ষণ থমকে দাঁড়ায়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী গাড়িতে যেন আলতো করে 'তদন্ত' চালাল সে। তাকে দেখে লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের মধ্যে কিছুটা হুড়োহুড়ি পড়লেও, রামলাল কিন্তু কারও কোনও  ক্ষতি করেনি। বরং নিজের মর্জিতে কিছুক্ষণ এলাকা ঘুরে দেখে সে ধীরপায়ে পাশের জঙ্গলের দিকে পা বাড়ায়। এই বিরল দৃশ্য চাক্ষুষ করতে এবং নিজের মোবাইলে বন্দি করতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় সাধারণ মানুষের মধ্যে, যা সামলাতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তা কর্মীদের।

খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান লোধাশুলি রেঞ্জের বনকর্মীরা। বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দল ও 'ঐরাবত' গাড়ির সাহায্যে হাতিটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঝাড়গ্রামের মতো হাতিপ্রবণ এলাকায় ভোটের দিন কোনও  অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আগে থেকেই ১৫ জনের একটি বিশেষ দল এবং 'হুলা পার্টি'কে সতর্ক রাখা হয়েছিল। রামলালের এই আকস্মিক সফর সেই প্রস্তুতিরই যেন একটা পরীক্ষা নিয়ে নিল।

এদিন ঝাড়গ্রামের ৪টি আসন-সহ রাজ্যের মোট ১৬টি জেলার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৭টা থেকে কড়া নিরাপত্তায় ভোট শুরু হলেও জিতুশোলের এই ঘটনাটি ছিল দিনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। প্রায় ২৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের বিশাল পাহাড়ার মাঝে রামলালের এই 'ঝটিকা সফর' সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটালেও, শেষ পর্যন্ত বড় কোনও  বিপত্তি ঘটেনি। বনকর্মীরা জঙ্গল এলাকা পরিষ্কার করতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন ভোটাররা এবং ফের স্বাভাবিক ছন্দে শুরু হয় ভোটদান প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের উৎসবে বাগড়া না দিয়ে জঙ্গলমহলের এই শান্ত অতিথি বনেই ফিরে গেছে।