আজকাল ওয়েবডেস্ক: জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক আবহে নতুন বিতর্ক ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে। শনিবার ঝাড়গ্রামে নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক বিধিনিষেধ এবং হেলিকপ্টার চলাচল নিয়ে বিরোধীদের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে। এই ঘটনাকে ঘিরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বাধা’ বলে অভিযোগ তুলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার৷ সূত্রের খবর, নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ঝাড়গ্রামে একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পরবর্তীতে তাঁর সফরের সময়সূচি কিছুটা দীর্ঘায়িত হয়। এই সময়েই ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং তাঁর স্ত্রী কল্পনা সোরেন পশ্চিম মেদিনীপুরের দান্তন ও কেশিয়ারি এলাকায় নির্বাচনী সভা সেরে ঝাড়গ্রামে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে ঝাড়গ্রামে তাঁদের হেলিকপ্টার অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রশাসনিক স্তরে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখানো হলেও, বিরোধীদের দাবি- এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা এবং অনিশ্চয়তার পর শেষ পর্যন্ত হেমন্ত সোরেন ও কল্পনা সোরেনকে রাঁচিতে ফিরে যেতে হয় বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, এটি শুধু প্রোটোকল বা নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং বিরোধী নেতাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ব্যাহত করার একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। তাঁদের অভিযোগ, জঙ্গলমহলের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করতেই এই ধরনের প্রশাসনিক বাধা তৈরি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় আকাশপথে চলাচল নিয়ে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বিধি মেনে চলতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। বিরোধীরা যেখানে এটিকে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব’ বলে তুলে ধরছে, সেখানে শাসকদল বিষয়টিকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজনীয়তা হিসেবেই ব্যাখ্যা করছে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, জঙ্গলমহলের নির্বাচনী আবহে এই বিতর্ক যে আরও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।















