আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের প্রস্তুতির মাঝেই বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আইএএস অফিসার বিভু গোয়েল -কে অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। সোমবার এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগারওয়াল। 

নির্দেশিকা অনুযায়ী, অবিলম্বে কার্যকর করা হচ্ছে এই নিয়োগ এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন বলেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে বিভু গোয়েল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে নোডাল অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক সমন্বয় আরও জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর। বিশেষ করে এসআইআর ২০২৬-এর আপিল ট্রাইব্যুনাল পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বিভু গোয়েল।

কী কী দায়িত্ব পেলেন বিভু গোয়েল?

জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে বিভু গোয়েলের প্রধান দায়িত্বগুলি হল— 

১. নির্বাচন কমিশন, আপিল ট্রাইব্যুনাল হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং কলকাতা হাইকোর্টের মধ্যে একক সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করা। 

২. নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত নির্দেশ ও আপডেট দ্রুত বিচারপতিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। 

৩. ট্রাইব্যুনালগুলির অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি তদারকি করা। 

৪. নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে আপিল সংক্রান্ত আপলোডের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা। 

৫. বিচারপতিদের সাম্মানিক, কার্যপদ্ধতি ও অর্থপ্রদানের বিষয় সমন্বয় করা। 

৬. বিচারপতিদের অভিযোগ ও প্রশ্নের দ্রুত নিষ্পত্তি করা। 

৭. আপিল ট্রাইব্যুনালের প্রস্তুতি ও কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে উচ্চ আদালতকে অবহিত করা। 

 নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে প্রস্তুতি:

সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই একাধিক কড়া পদক্ষেপ করেছে। সেই প্রেক্ষিতেই প্রশাসনিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী করতে এই নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অনুরোধের ভিত্তিতেই এই দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে আপিল ট্রাইব্যুনালগুলির কাজ দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা যায়।

নির্বাচনের আগে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ রাজ্যে ভোট পরিচালনায় আরও গতি আনবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।