আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক জনসভায় আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগে ঘাসফুল শিবিরের দাবি, নির্ধারিত সময়ের তোয়াক্কা না করেই সোনাখালি হাইস্কুলের মাঠে সভা করেছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। তৃণমূলের অভিযোগ, গত ২০ এপ্রিল বিজেপি প্রার্থী তপন দত্তের সমর্থনে আয়োজিত এই জনসভাটি দুপুর দেড়টার মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর হেলিকপ্টারই নামে দুপুর ৩টে ১০ মিনিট নাগাদ, আর সভা চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নির্দিষ্ট সময়সীমা এভাবে লঙ্ঘন করা নির্বাচনী বিধির স্পষ্ট অবমাননা বলেই মনে করছে শাসক দল।
অভিযোগপত্রে আরও একটি গুরুতর বিষয় তুলে ধরেছে তৃণমূল। তাদের দাবি, ওই সভার জন্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী আশেপাশের রাস্তা দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখেছিল। এর ফলে তৃণমূলের আগে থেকে ঠিক হয়ে থাকা একটি কর্মসূচি চরমভাবে বিঘ্নিত হয়। এই ঘটনাকে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনপরিসরের ওপর একাধিপত্য কায়েমের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। নির্বাচন কমিশনের ২০২৩ সালের নির্দেশিকা ও পুলিশ পর্যবেক্ষকদের জন্য নির্ধারিত নিয়মাবলীর দোহাই দিয়ে তৃণমূল বলেছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা একেবারেই নিরপেক্ষ ছিল না।
শাসক দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রশাসনের এই পক্ষপাতমূলক আচরণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে। যেখানে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকার কথা, সেখানে বিজেপি নেতাদের বাড়তি সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে বলে তাদের দাবি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শুভেন্দু অধিকারীসহ সংশ্লিষ্ট বিজেপি নেতা এবং ওইদিনের দায়িত্বে থাকা সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। তবে এই অভিযোগ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে ভোটের মুখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।















